দুপুর ১:০২, ৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
ডঃ তারনিমা ওয়ারদা আন্দালিব, এবং দাউদ ইব্রাহিম হাসান : এক একটি বছর আসে, আর চলে যায়, ঠিক যেন পদ্মা-মেঘনার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা বালির বাঁধের মতো আমাদের শিক্ষাজীবন। অথচ এই শিক্ষাব্যবস্থা একটি সেতুবন্ধন হতে পারত; পরিবার, সমাজ আর ভবিষ্যতের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করত। কিন্তু হায়, এটি আজ এক ভগ্ন যন্ত্রের মতো, যেখানে সুরের বদলে কেবল বিষাদের বেসুরো শব্দ। আজ সেই বিষাদের গল্পটি শোনাবো, যে গল্পে অরণ্য, মেঘলা, আর বৃষ্টির পরিবারটি সময়ের বেড়াজালে আটকে আছে। ২০১৫ সালে যখন মেঘলা সবে কলেজের দোরগোড়ায়, তখন ছোট বোন বৃষ্টির স্কুল জীবন কেবল শুরু। তাদের বাবা-মা স্বপ্ন দেখতেন, বছরে দুটি নির্দিষ্ট সময়ে পরিবার একসঙ্গে এক হয়ে ছুটি কাটাবে। কিন্তু নিয়তির পরিহাস, তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় শিক্ষাবর্ষের সেই অমোঘ বিশৃঙ্খলা। প্রশাসনিক কাঠামো যে কতটা বিশাল আর সমন্বয়হীন, তা কেবল একটি তথ্যেই স্পষ্ট হয়; শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও BANBEIS (বাংলাদেশ ব্যুরো অফ এডুকেশনাল ইনফরমেশন অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্স) এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১১টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, সাথে কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ড, একটি UGC (যা 1973 সালে প্রতিষ্ঠিত) এবং দুটি মন্ত্রণালয়—এই এতগুলি অভিভাবক থাকার পরেও কেউ একটি অভিন্ন রুটিন তৈরি করতে পারল না।
এই সময়ের দিকেই, জাতীয় বাজেট দলিল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৬ সালে দেশের শিক্ষা খাতে যখন মোট বাজেটের সর্বোচ্চ ১৪% বরাদ্দ ছুঁয়েছিল, তখন মনে হয়েছিল হয়তো এবার পরিবর্তন আসবে। কিন্তু না, সেই বরাদ্দ ২০১৮ সাল নাগাদ আবার কমতে শুরু করে এবং ইউনেস্কো এবং বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (৪%-৬% জিডিপি) থাকা সত্ত্বেও, BANBEIS এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, জিডিপি-র অনুপাতে তা ২% এর আশেপাশে আটকে থাকে। অন্যদিকে প্রাথমিক স্তরের GER (Gross Enrollment Rate) যা ২০০৫ সালে ছিল 101.65%, তা ২০২০ সাল নাগাদ বেড়ে 119.56% এ উন্নীত হয়। এই সংখ্যাগত উন্নতি সত্ত্বেও, গুণগত মান ও রুটিনের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়েই থাকি।
এই সময়ের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এসএসসি পরীক্ষার রুটিন ফেব্রুয়ারি থেকে কখনো কখনো পিছিয়ে মার্চের দিকে চলে যেত, আর এইচএসসি এপ্রিলের বদলে মে মাসের শুরুতে শুরু হতো। এই সামান্য দু-এক মাসের ব্যবধানই পরিবারগুলোর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াত। অরণ্য, যে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে, তার সেমিস্টার ফাইনাল শুরু হতো ঠিক যখন বৃষ্টির গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হতো। তাদের বাবার বার্ষিক ছুটির আবেদনটি তাই প্রতি বছরই ব্যর্থ হতো, কারণ পরিবারের তিন সদস্যের ছুটি কোনোদিনও একসাথে মেলেনি। ২০০০ সাল থেকে এই প্রবণতা শুরু হলেও, ২০১৫ সাল নাগাদ তা যেন এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছিল।
২০২০ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে, ১৭ই মার্চ শিক্ষাঙ্গনে যে তালা পড়ল, তা খুলতে লেগে গেল দীর্ঘ দেড় বছর। এটি কেবল সময়ের অপচয় ছিল না, এটি ছিল পারিবারিক বন্ধনের ওপর এক চরম আঘাত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে জিডিপি-র বরাদ্দ কমে যখন ১.৯% এ দাঁড়িয়েছিল, তখন এই শিক্ষাব্যবস্থা যে কতটা ভঙ্গুর, তা প্রমাণিত হলো। BANBEIS এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল নাগাদ দেশে মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৬,৯৪০টি, যার মধ্যে ১৭৬টি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশাল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মকানুন মহামারী-পরবর্তী সময়ে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।
এই সময়ে রুটিনের নৈরাজ্য চূড়ায় পৌঁছায়। শিক্ষা বোর্ডের পুনঃনির্ধারিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষা যা ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা, তা অনুষ্ঠিত হলো ডিসেম্বর মাসে—প্রায় ৯ মাসের বিলম্ব। ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলো সেই বছরের ডিসেম্বরে—প্রায় ৮ মাসের সেশন জট সৃষ্টি হলো। মেঘলার জীবনের মূল্যবান একটি বছর কেবল অপেক্ষাতেই কেটে গেল। UGC এবং BANBEIS এর সম্মিলিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, প্রায় ১০,৬৭,৮৫২ জন শিক্ষার্থী (২০২৩ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণরা) উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি প্রক্রিয়ায় এই দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হলেন, যা তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ের ৫ থেকে ৯ মাস কেড়ে নিল। মাধ্যমিক স্তরের GER যা ২০০০ সালে ছিল প্রায় ৪৫%, তা ২০২৩ সালে ৭৪.৮১% এ উন্নীত হলেও, রুটিন বিপর্যয়ের কারণে BANBEIS এর তথ্য অনুসারে মাধ্যমিক স্তরে ৩৫.৯৮% এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ২১.৫১% শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার (Dropout Rate) হার বিদ্যমান থাকে। এটি কেবল অ্যাকাডেমিক ক্ষতি ছিল না, এটি ছিল মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এক বিরাট চাপমহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে উঠেও আমাদের শিক্ষা অভিভাবকরা একটি ঐক্যবদ্ধ রুটিন দিতে পারলেন না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বাজেট প্রস্তাবনা অনুসারে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যেখানে জিডিপি-র অনুপাতে শিক্ষার জন্য বরাদ্দ মাত্র ১.৬৯% এ নেমে এসেছে (যা ২০১৬ সালের ১৪% মোট বাজেটের চেয়ে কম), সেখানে প্রশাসনিক সংস্কারের আশা করা বাতুলতা মাত্র। শিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুসারে, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষা আবার পিছিয়ে এপ্রিল মাসে, আর এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই রুটিন বিশৃঙ্খলা এখন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ‘নতুন স্বাভাবিক’ হয়ে উঠেছে।
অরণ্য, মেঘলা আর বৃষ্টির পরিবারে এখন হতাশার সুর। পর্যটন কর্পোরেশনের তথ্যানুসারে, সমন্বিত ছুটির অভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্প বিপুল সংখ্যক পরিবারের এককালীন ভিড় থেকে বঞ্চিত হয়, এবং পরিবারগুলো যৌথ ভ্রমণের সুযোগ হারায়। যদি বছরে দুটি সমন্বিত ছুটি না পাওয়ার অনুমান করা হয়, তবে পরিবার গবেষণা সংস্থার মতে, এই পরিবারগুলো ২৫ বছরে প্রায় ৩৫০ দিনের পারিবারিক সময় বা ভ্রমণের সুযোগ হারিয়েছে। এই বিশৃঙ্খলার চিত্র, যা আমাদের স্বপ্নকে বারবার ভেঙে দিয়েছে, তারই একটি শীতল প্রতিচ্ছবি নিচে তুলে ধরা হলো:
বিষয় : বছর বা সময়কাল : সংখ্যা/শতাংশ/বিবরণ : তথ্যের প্রকার :
শিক্ষা বোর্ডের সংখ্যা : বর্তমান : ১১টি সাধারণ বোর্ড + ২টি বিশেষায়িত : প্রশাসনিক তথ্য
UGC প্রতিষ্ঠা : ঐতিহাসিক :1973 : ঐতিহাসিক তথ্য
প্রাথমিক শিক্ষার্থী (২০০৫) : ২০০৫ : Gross Enrollment Rate 101.65% : পরিসংখ্যান
প্রাথমিক শিক্ষার্থী (২০২০) : ২০২০ : Gross Enrollment Rate 119.5%
পরিসংখ্যান :
মোট প্রতিষ্ঠান (২০২৩) : ২০২৩ : পোস্ট-প্রাইমারি ৩৬,৯৪০টি : প্রশাসনিক পরিসংখ্যান
বিশ্ববিদ্যালয় (২০২৩) : ২০২৩ : ১৭৬টি : প্রশাসনিক পরিসংখ্যান :
মাধ্যমিক GER (২০০০) : ২০০০ : প্রায় ৪৫% : পরিসংখ্যান
মাধ্যমিক GER (২০২৩) : ২০২৩ : ৭৪.৮১% : পরিসংখ্যান
উচ্চশিক্ষা GER (২০২৩) : ২০২৩ : ২০.১৮% : পরিসংখ্যান
শিক্ষা বাজেট/জিডিপি (২০১৯-২০) : ২০১৯-২০ : ১.৯% : পরিসংখ্যান
শিক্ষা বাজেট/জিডিপি (২০২৪-২৫) : ২০২৪-২৫ : ১.৬৯% (প্রস্তাবিত) : পরিসংখ্যান
আন্তর্জাতিক লক্ষ্য : নির্দিষ্ট নয় : ৪%-৬% (ইউনেস্কো) : তথ্যগত মানদণ্ড
সেশন জট ক্ষতি (২০২৩) : ২০২৩ : প্রায় ১০,৬৭,৮৫২ শিক্ষার্থী : পরিসংখ্যানগত প্রভাব
কোভিড বন্ধ (২০২০-২১) : ২০২০-২১ : মার্চ ১৭, ২০২০ – সেপ্টেম্ব. ১১, ২০২১ : তারিখভিত্তিক তথ্য
এসএসসি-২০২১ বিলম্ব : ২০২১ : প্রায় ৯ মাসের বিলম্ব : বিশ্লেষণাত্মক তথ্য
এইচএসসি-২০২২ বিলম্ব : ২০২২ : প্রায় ৮ মাসের বিলম্ব : বিশ্লেষণাত্মক তথ্য
এসএসসি-২০২৩ তারিখ : ২০২৩ : ৩০ এপ্রিল : তারিখভিত্তিক তথ্য
এইচএসসি-২০২৫ প্রত্যাশিত তারিখ : ২০২৫ : জুন : তারিখভিত্তিক তথ্য
বাজেট/মোট (২০২৪-২৫) : ২০২৪-২৫ : ১১.৯% (প্রস্তাবিত)
পরিসংখ্যান
বাজেট/মোট (২০১৬) : ২০১৬ : ১৪% (সর্বোচ্চ) : পরিসংখ্যান
মাধ্যমিক Dropout Rate (২০২২) : ২০২২: ৩৫.৯৮%
পরিসংখ্যান
উচ্চ মাধ্যমিক Dropout Rate (২০২৩) : ২০২৩ : ২১.৫১% : পরিসংখ্যান
এই পরিসংখ্যানগুলো হলো আমাদের নীরব ব্যর্থতার দলিল। একটি সমন্বিত শিক্ষাবর্ষ রুটিন তৈরি করে দেওয়া গেলে বাবা-মা থেকে শুরু করে ভাই-বোন—সবার জীবন একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ফিরত। এটিই পারতো আমাদের এই বেদিক হওয়া যন্ত্রটিকে আবারও একটি সুরেলা সেতুবন্ধনে পরিণত করতে। সেই স্বপ্নের অপেক্ষায় আজো এই জাতির প্রতিটি অরণ্য, মেঘলা আর বৃষ্টি অপেক্ষা করে আছে।
আমাদের এই ভগ্ন যন্ত্রটিকে পুনরায় সুর দিয়ে একটি মুক্তির সেতুবন্ধনে পরিণত করতে হলে শুধু সমালোচনাই যথেষ্ট নয়, চাই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এবং দায়বদ্ধতা। ২০২৬ সাল থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা আবশ্যক, যা আমাদের ভবিষ্যতের পথকে আলোকিত করতে পারে:
সাধারণ মানুষ এবং নাগরিক সমাজকে ২০৩০ সালের মধ্যে একীভূত রুটিনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর তৈরি করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে বা স্থানীয় প্রশাসনে অভিভাবক হিসেবে আমাদের জোরালো দাবি জানাতে হবে। প্রত্যেক অভিভাবক যেন ব্যক্তিগত ছুটি গ্রহণের সময় শিক্ষাবর্ষের সাথে মিলিয়ে একটি রুটিন তৈরি করার জন্য প্রতিষ্ঠানকে চাপ দেয়। এছাড়া, পরিবারগুলোকে এই রুটিন বিশৃঙ্খলার মাঝেও, বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে (যেমন: শীতকালীন ছুটির আশেপাশে) নিজেদের উদ্যোগে পারিবারিক সময় বের করার সৃজনশীলতা দেখাতে হবে, যাতে মানসিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। নাগরিক সমাজ ও এনজিওগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে শিক্ষাবর্ষের রুটিন বিপর্যয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়া মানসিক চাপ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে, তার ফলাফল সরকারকে জানাতে হবে এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে।
অন্যদিকে, সংস্থা ও সরকারের উচিত হবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রথমত, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই ২০২৭ সালের মধ্যে একটি জাতীয় শিক্ষাবর্ষ আইন প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার শুরুর তারিখ বাধ্যতামূলকভাবে ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলের প্রথম দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। এই আইন লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, UGC ও সকল শিক্ষাবোর্ডকে নিয়ে একটি একক কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ব্রেক ও স্কুল-কলেজের ছুটির সময়কে সমন্বিত করবে—এটি একটি “National Academic Calendar Authority (NACA)” হিসেবে কাজ করতে পারে। তৃতীয়ত, অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০৪০ সালের মধ্যে জিডিপি-র অনুপাতে শিক্ষা বাজেট ৪% এ উন্নীত করতে হবে। এই অতিরিক্ত অর্থ প্রশাসনিক সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল রুটিন বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে।
এই কঠোর পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে উচ্চশিক্ষায় সেশন জটকে ২ মাসের নিচে নামিয়ে আনা। UGC-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৪০ সালে উচ্চশিক্ষার তালিকাভুক্তির হার (GER) ৩০% ছুঁলেও, একটি সমন্বিত রুটিন বাস্তবায়িত হলে চাকরির বাজারে প্রবেশে একজন শিক্ষার্থীর সময় নষ্ট হওয়ার হার ১.৫ বছরের পরিবর্তে ২ মাসের নিচে নেমে আসবে। এই সকল পদক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল অরণ্য, মেঘলা আর বৃষ্টির পরিবারগুলো সেই হারানো সুরটি খুঁজে পাবে, এবং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পুনরায় একটি মুক্তির সেতু হিসেবে কাজ করতে পারবে।
“হে জাতি, যদি বছরের পর বছর ধরে বাজেট, নির্বাচন আর উৎসবের দিনক্ষণ স্থির করতে পারো, তবে কোন্ সে লজ্জায় একটি সন্তানের আগামী জীবনের রুটিন দিতে পারো না? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে সেই ‘ভগ্ন যন্ত্র’ থেকে মুক্ত করে ‘মুক্তির সেতু’ গড়তে হলে আজই চাই সেই অমোঘ অঙ্গীকার—নিয়ম মানতে হবে; নিয়মের শাসনকে উপেক্ষা করার ঔদ্ধত্য এবার ভেঙে দিতেই হবে!”
সংক্ষিপ্ত জীবনী :
ডঃ তারনিমা ওয়ারদা আন্দালিব, বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইমপ্যাক্ট গ্রুপে গ্লোবাল কনসালট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন।
দাউদ ইব্রাহিম হাসান, বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স-এর অর্থনীতি বিভাগে অধ্যয়নরত থাকার পাশাপাশি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় একজন রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট এবং সেই সাথে আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি-এর মার্কেটিং বিভাগের একজন সদস্য হিসেবে নিয়োজিত আছেন।