রাত ১০:১৯, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
স্বাধীনমত ডেস্ক
ইরানের চারপাশে জড়ো হওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিপুল শক্তির ‘একেবারে কেন্দ্রে’ রয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ইরানে মার্কিন হামলার তীব্র আশঙ্কার মাঝে ওই মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল জেমস জি স্ট্যাভরিডিস।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সাবেক সুপ্রিম অ্যালায়েড কমান্ডার স্ট্যাভরিডিস সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে মোতায়েনকৃত সামরিক শক্তি ‘দান্তের ইনফার্নো’র মতো; এর পরিসর ও কৌশল ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ এবং ১৯৯০-৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সমান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্ট্যাভরিডিস বলেন, ‘‘আপনি ২০০৩ সালের সঙ্গে তুলনা দিয়ে শুরু করেছিলেন, এটি ১৯৯০ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সঙ্গেও তুলনীয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক শক্তি। বাইরে থেকে ভেতরের দিকে, দান্তের ইনফার্নোর মতো একের পর এক সমকেন্দ্রিক বলয়ে নেমে আসার কথা ভাবুন। বাইরের সব বলয়ে রয়েছে কৌশলগত বোমারু বিমান; যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকেই উড়ে আসতে কিংবা অন্য ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হতে পারে।’’
‘দান্তের ইনফার্নো’ হলো চতুর্দশ শতকের কবি দান্তে আলিগিয়েরির লেখা একটি কবিতা; যেখানে নরককে ৯টি বৃত্তে বিভক্ত করে দেখানো হয়েছে যে, প্রতিটি বৃত্তে শাস্তির মাত্রা ক্রমান্বয়ে আরও কঠোর।
মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা জেমস জি স্ট্যাভরিডিসের মতে, ওই পরিসীমার ভেতরে রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরী; একটি উত্তর ভারত মহাসাগরে, অন্যটি সিরিয়ার পাশে ইসরায়েলের কাছে। প্রতিটিতে প্রায় ৮০টি করে যুদ্ধবিমান রয়েছে; যার মধ্যে এফ-৩৫ ও এফ/এ-১৮ হর্নেটও অন্তর্ভুক্ত। আরও ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সাইবার সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিতে মোতায়েনকৃত বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান।
স্ট্যাভরিডিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাজানো এই নরকের আগুনের একেবারে কেন্দ্রে আছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একমত। তার জন্য আলোচনা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
তিনি বলেন, আপনি ড্রোন পাঠাতে পারেন, সাইবার সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে দেখানো অনেক ঘাঁটিতে রয়েছে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানও। তাই আবারও বলছি, দান্তের ইনফার্নোর মতো ধাপে ধাপে নেমে আসার কথা ভাবুন।
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনীতি সফল হবে নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে—তা ‘সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যেই’ বিশ্ব জানতে পারবে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। যদিও বরাবরের মতো এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে তেহরান। সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের সাম্প্রতিক আলোচনায় তেমন কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, কূটনীতি বা সীমিত হামলা যদি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশটির নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়াতে বিপ্লবী গার্ড, পারমাণবিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন বলে নিজের উপদেষ্টাদের জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।
ইরান অভিযোগ করে বলেছে, সামরিক শক্তি জড়ো করা ও সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি সংকটের ঝুঁকি তৈরি করছে। তেহরানের মতে, ওয়াশিংটনের বক্তব্য প্রকৃত সামরিক আগ্রাসনের হুমকির ইঙ্গিত দেয় এবং যেকোনও হামলার একেবারে সুনির্দিষ্ট জবাব দেওয়া হবে।