রাত ১০:২০, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
স্বাধীনমত ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফায় পারমাণবিক চুক্তির আলোচনায় বসছে ইরান। বৃহস্পতিবারের ওই আলোচনায় প্রধান অচলাবস্থার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো রকেট-চালিত এমন এক অস্ত্র; যা উৎক্ষেপণের সময় নির্দেশিত পথে চললেও এর ফ্লাইটের অধিকাংশ সময় মুক্ত-পতনের পথ অনুসরণ করে। এই ক্ষেপণাস্ত্র নির্দিষ্ট দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে বিস্ফোরক, জৈব, রাসায়নিক কিংবা সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র বহন করে নিয়ে যেতে পারে।
পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের ওই বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য প্রচলিত সামরিক হুমকি এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে তা ব্যবহারের মাধ্যম হিসেবে দেখে। তবে তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।
ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি রাজধানী তেহরানের আশপাশে অবস্থিত। এছাড়া কেরমানশাহ ও সেমনানসহ বিভিন্ন প্রদেশে অন্তত পাঁচটি ভূগর্ভস্থ ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কাছে আরও কিছু গোপন আস্তানা রয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বলছে, ইরানের হাতে ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম বেশ কিছু দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেজিল (পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার), ইমাদ (১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার), কাদির (২ হাজার কিলোমিটার), শাহাব-৩ (১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার), খোররামশহর (২ হাজার কিলোমিটার) এবং হুভেইজেহ (১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার)।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ইরানি সংবাদমাধ্যম ইসনা একটি গ্রাফিক প্রকাশ করে, যেখানে ইসরায়েলে পৌঁছাতে সক্ষম ৯টি ক্ষেপণাস্ত্রের কথা বলা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সেজিল; যা ঘণ্টায় ১৭ হাজারের কিলোমিটারেরও বেশি বেগে উড়তে পারে। এছাড়া রয়েছে খাইবার (২ হাজার কিলোমিটার) এবং হাজ কাসেম (১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার)।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ইরানের ভাণ্ডারে শাহাব-১ (৩০০ কিলোমিটার), জুলফাগার (৭০০ কিলোমিটার), ইমাদ-১ (নির্মাণাধীন) এবং সেজিলের নতুন মডেল; যার পাল্লা ১ হাজর ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে কাতারের আল উদেইদ মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তবে তেহরান আগে সতর্ক করে দেওয়ায় ওই হামলায় কাতারে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কাতারে ইরানের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।
এর আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সদর দপ্তর এবং সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এছাড়া পাকিস্তানে একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দু’টি ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান।
২০১৯ সালে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পেছনেও ইরানকে দায়ী করে রিয়াদ এবং ওয়াশিংটন। যদিও এই অভিযোগও অস্বীকার করেছে তেহরান। ২০২০ সালে কাসেম সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান।
২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা, পরিবহন ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো মাটির নিচ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছিল তেহরান।
২০২৩ সালের জুনে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে ইরান। ওই ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে উড়তে পারে, যা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। এছাড়া ইরানের কাছে কেএইচ-৫৫ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং এর পাল্লা ৩ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত।