বিকাল ৫:৩৬, ৯ই মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যতটুকু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা প্রয়োগের যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, নির্বাচনের সময় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়ার শক্তি থাকলেও মূলত ক্ষমতা প্রয়োগের শক্তি তার নেই, এই শক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে।
সোমবার বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সঙ্গে সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিইসি।
হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা সাহায্য চাইব, সেটি কিন্তু আইনের আলোকেই চাইব এবং সে বিষয়েও আমাদের ভূমিকাটা দেখা যাবে। সত্যি সত্যি আমাদের ওপরে আরোপিত ক্ষমতাটার কমান্ড আমার হাতে, শক্তিটা পুলিশের হাতে, শক্তিটা বিজিবির হাতে, শক্তিটা সেনাবাহিনীর হাতে; মূল শক্তিটা। শক্তিটা আমার হাতে নয়, কমান্ডটা আমার হাতে আছে। আমরা কমান্ড করলে যেন শক্তিটা রেসপন্স করে, সেই ধরনের অবস্থা আমাদের সৃষ্টি করতে হবে। নির্বাচনের প্রয়োজনেই সেটি অপরিহার্যভাবে প্রয়োজন।’
সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় যেটি হবে, তখন সরকার থাকবে। যে সরকারই হোক, একটা সরকার তো থাকবে। সরকার আমাদের সহযোগিতা করবে। আমরা সরকারের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারব। আমরা বলব— এ সহযোগিতাগুলো আমাদের দিতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার তখন না করতে পারবে না, তা না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।’
নির্বাচন কমিশনের একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার প্রয়াস থাকবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘একটু আগেই বলেছেন (বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এক নেতা) নির্বাচন কমিশনের সাধ্য অসীম নয়। অংশীজনের সহযোগিতা লাগবে। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে বিদ্যমান মোটাদাগে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো রাজনৈতিকভাবে সমাধান করা যায়। যদি আপনারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই প্রয়াসটা নেন। আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকবে না। আমাদের যতটুকু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা প্রয়োগ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা সুজার নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল, পাঁচ নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংলাপে অংশ নেন।
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা। এ সময় দলটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে ১১ দফা প্রস্তাব পেশ করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘বড় দেশগুলো’ উপদেশ দেওয়ার পাশাপাশি ‘ধমকও দেয়’ অভিযোগ করে ফজলে হোসেন বাদশা জানান, এ ধরনের হস্তক্ষেপ হলে ইসির পাশে দাঁড়াতে চান তারা। বাদশার এই বক্তব্যের জবাবে সিইসি বলেন, দেশের বাইরে থেকে কোনো দলের সমর্থন, দেশের বাইরে থেকে কোনো হুমকি-ধামকি আসে কি না- বিষয়টি পলিটিক্যালি আপনারা ফেইস করবেন। কমিশনের এ ক্ষেত্রে করার কিছু নেই; সেটা হওয়ারও কথা নয়।