রাত ১০:২২, ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
স্বাধীনমত ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এই দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সোমবার সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। তেলের বৃহৎ কিছু উৎপাদনকারী দেশ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় এবং নৌ-পথে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার আশঙ্কায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ১২.৭৭ ডলার বা ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ১২.৬৬ ডলার বা ১৪ শতাংশ বেড়ে ১০৩.৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।
অত্যন্ত অস্থির এই সেশনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক পর্যায়ে ১১৯.৫০ ডলারে উঠেছিল; যা একদিনে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধি। ডব্লিউটিআইয়েএর দামও এক পর্যায়ে ১১৯.৪৮ ডলারে পৌঁছায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এলএসইজির ১৯৮০ সাল পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তেলের দাম সর্বোচ্চ ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলারে উঠেছিল।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগ তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের এক সপ্তাহের মাথায় তেহরানের ক্ষমতায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে দেশটির সরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও লজিস্টিক সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আরও কয়েক মাস চড়া জ্বালানি মূল্যের মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ গ্যালনপ্রতি ৩.২২ ডলারে উঠেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
ইউবিএস বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেছেন, ‘‘তেলের বাজারে বিকল্প ব্যবস্থা সীমিত। কৌশলগত মজুদ থেকে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হলেও হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তা হবে সমুদ্রের মাঝে এক বিন্দু জলের মতো।’’ মার্কিন সিনেটের ও ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার এবং জি-৭ রাষ্ট্রগুলোও কৌশলগত মজুদ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করছে।
গ্যাসের বৈশ্বিক বাজারের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পর উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্পাঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাহরাইনের বিএপিসিওর পরিশোধনাগারে ইরানের হামলার পর ফোর্স ম্যাজেউর ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে।