সকাল ১১:১৭, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম:

‘এসএসসি ব্যাচ-১৯৮৬ বাংলাদেশ’-এর ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

এসএসসি ব্যাচ ১৯৮৬ বাংলাদেশ এর ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং এই ব্যাচের এসএসসি পরীক্ষার ৪০ বছর পূর্তি উদযাপনে দিনজুড়ে মিলন মেলা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকার কেরানীগঞ্জের শরীফ ড্রিম হলিডে পার্কে এ আয়োজনে ভোর থেকেই জড়ো হন দেশের নানা প্রান্ত এবং প্রবাস থেকে আসা ১৯৮৬ সালের এসএসসি ব্যাচের বন্ধুরা। কারও চেহারায় বহুদিন পর দেখা হওয়ার উচ্ছ্বাস, কারও চোখে নীরব আবেগ আর স্মৃতিকাতরতা। উৎসবের শুরুটা ছিল এমনই।

স্বাগত পর্ব, উপহার বিতরণ আর সকালের নাস্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মিলনমেলার আনুষ্ঠানিকতার প্রথম রঙিন অধ্যায়। তারপরই মঞ্চে ফুটে ওঠে উৎসবের মূল আবহ। জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা আর গ্রুপের পতাকা উত্তোলনের পর শ্রদ্ধা জানানো হলো প্রয়াত সহপাঠীদের প্রতি।প্রার্থনা করা হয় তাদের আত্মার শান্তি কামনায়।

এসএসসি ব্যাচ ১৯৮৬ বাংলাদেশ এর থিম সং যখন পুরো প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ল, তখন সমবেত কণ্ঠের শক্তি সবাইকে আরও কাছে নিয়ে এলো। ৮৬ সঙ্গীত একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার পর শুরু হলো শুভেচ্ছা বক্তব্যের আনুষ্ঠানিকতা। উদযাপন আয়োজক, কেন্দ্রীয় কো-অর্ডিনেশন কমিটি ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রতিনিধিদের বক্তব্যে ফুটে উঠল এই বার্তা: যেখানে ৮৬, সেখানেই বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও শুভশক্তির দলবদ্ধ পথচলা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল সাংগঠনিক পর্ব, ‘স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন’ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। নানা জেলা, অঞ্চল ও দেশের বাইরে থেকে আসা সর্তীর্থদের অংশগ্রহণে তৈরি হলো এক দুর্লভ মানবিক সম্মিলন- যেখানে সবার পরিচয় একটাই: ‘আমরা এসএসসি ব্যাচ ১৯৮৬ বাংলাদেশ’। স্মৃতিচারণ পর্বে অতীতের গল্প, হাসির রোল আর নস্টালজিয়ায় ভরে উঠল বিকেল।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। শুরু হলো দ্বিতীয় পর্ব- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত, নাচ, কবিতা- বিভিন্ন পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠল পুরো উৎসবস্থল। সন্ধ্যার আলো যখন নেমে এলো, তখন উৎসব পেয়েছিলো আরও এক মাত্রা- বিকেলের নাস্তা থেকে নৈশভোজ পর্যন্ত ছিলো খাবারের সমৃদ্ধ আয়োজন আর একসঙ্গে বসে গল্প-আড্ডার অবিরাম নির্মল আনন্দ উপভোগ।

সমাপনী বক্তব্যে এসএসসি ব্যাচ ১৯৮৬ বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও গ্রুপ অ্যাডমিন এবং ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক মো. আশরাফুল হক সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়োজনের প্রত্যাশার কথা জানান। কুয়াশায় ঢাকা রাতে একে একে সবাই অনুষ্ঠানস্থল থেকে বিদায় নিলেও সবার মনের ভেতর রয়ে গেলো একটাই অনুভূতি- এই মিলনমেলা একটি অনুষ্ঠানের চেয়ে অনেক বড় কিছু। এটি এসএসসি ব্যাচ ১৯৮৬ বাংলাদেশ ইতিহাসে আরও একটি উজ্জ্বল মাইলফলক, যা বারবার মনে করিয়ে দেবে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর একতার শক্তির কথা।