,

রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই: প্রধানমন্ত্রী

দেশে রিজার্ভ সংকট নেই এবং এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘২০০৬ সালে বিএনপির আমলে রিজার্ভ ছিল শূন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক বিলিয়নের চেয়েও কম। আর এখন রিজার্ভ ৩১ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সোমবার বিকালে সদ্য সমাপ্ত জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল সাড়ে ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন চলছিল। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। বিকাল ৪টা ৭ মিনিটে সরকারি বাসভবন গণভবনে শুরু হয় এই সংবাদ সম্মেলন।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ও বেসরকারি টেলিভিশনগুলোতে এই সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই সংবাদ সম্মেলন কভার করেন।

রিজার্ভের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কারও কাছ থেকে ভিক্ষা আনবো না। কত অনাবাদি আছে। সব জমি চাষ করবো। নিজেরা উৎপাদন করবো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডলার সংকট বিশ্বব্যাপী। করোনা ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বে ডলার সংকট, মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। ডলার সংকট সারা বিশ্বেই রয়ে গেছে। রিজার্ভ যা আছে তাতে এটুকু বলতে পারি, আমাদের সংকট নেই। আমাদের যেটুকু রিজার্ভ থাকার দরকার, তিন মাসের খাদ্য মজুদের জন্য যতটুকু দরকার, তা আমাদের আছে।’

ঘূর্ণিঝড় মোখার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি দ্রুত মেরামত করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রিদেশীয় সফরের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে গত ২৫ এপ্রিল টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি তার জাপানী সমকক্ষ ফুমিও কিসিদার আমন্ত্রণে জাপান সফরে গিয়েছিলেন।

টোকিওতে অবস্থানকালীন শেখ হাসিনা এবং তার জাপানি সমকক্ষ কৃষি, মেট্রো-রেল, শিল্প-উন্নয়ন, জাহাজ-রিসাইক্লিং, কাস্টমস বিষয়, মেধা সম্পদ, প্রতিরক্ষা, আইসিটি এবং সাইবার নিরাপত্তা ইত্যাদি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে স্বাক্ষরিত আটটি চুক্তি বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন, যার বেশিরভাগই সমঝোতা স্মারক।

শেখ হাসিনা জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং তার জাপানি সমকক্ষ ফুমিও কিশিদার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য গত ২৭ এপ্রিল চার জাপানি নাগরিকের কাছে ‘ফ্রেন্ডস অফ লিবারেশন ওয়ার অনার’ হস্তান্তরের পাশাপাশি একটি বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন এবং কমিউনিটি সংবর্ধনায়ও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি একইসঙ্গে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশির পাশাপাশি জাইকা, জেইটিআরও, জেইবিআইসি, জেবিপিএফএল এবং জেবিসিসিসিইসি-এর নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

সফরের দ্বিতীয় ধাপে ওয়াশিংটন ডিসিতে, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পাশাপাশি, তিনি মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠক এবং বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া তিনি একটি নাগরিক সংবর্ধনায়ও যোগ দেন।

লন্ডনে তার সফরের তৃতীয় ধাপে, প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য কমনওয়েলথ রাজ্যের রাজা ও রানী হিসেবে চার্লস তৃতীয় এবং তার পত্নী ক্যামিলার রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

লন্ডনে শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি এবং তার স্ত্রী সুসানা স্পার্কস ও লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার অবস্থানস্থলে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক এবং রানী জেসুন পেমার সঙ্গে বৈঠক করেন।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং কমনওয়েলথ মহাসচিব ব্যারনেস প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার অবস্থানস্থলে সাক্ষাৎ করেন।

তিন দেশ সফর শেষে গত ৯ মে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।