রাত ৯:৪৫, ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
স্বাধীনমত ডেস্ক
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আগে নতি স্বীকার করতে হবে—তারপরই শান্তি নিয়ে আলোচনা সম্ভব।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বৈদেশিক নীতি বিষয়ক বৈঠকেই খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে খুব কঠোর ও প্রতিশোধমূলক অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি বলেন, অন্তত দুটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উত্তেজনা কমানো বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দেয়। তবে সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পরাজয় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত শান্তির সময় আসেনি।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে সর্বোচ্চ নেতাই রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখেন।
এক সপ্তাহেরও বেশি আগে ধর্মীয় পরিষদের মাধ্যমে তিনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী-খামেনির স্থলাভিষিক্ত হন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো নতুন ছবি প্রকাশ করা হয়নি।
কিছু ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলায় তার সামান্য আঘাত লেগেছিল, যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং পরিস্থিতির দ্রুত অবসানের কোনো লক্ষণ নেই।
গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি এখনও প্রায় বন্ধ রয়েছে। এটি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদের সহায়তা চাইলেও তারা সাড়া দেয়নি। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।