রাত ১০:২২, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রচার প্রচারণা করছে। যেখানেই তারা যাচ্ছেন সেখানেই লাখ লাখ মানুষ। মানুষ হাসিনার ১৬ বছরে ভালো একটি নির্বাচন দেখে নাই। সকালে গিয়ে দেখে ব্যালেট চুরি হয়ে গেছে, না হয় তার সামনে দিয়ে ব্যালট বক্স নিয়ে গেছে, তাকে পুলিশ বলেছে, তোমার আসার দরকার নেই। নির্বাচনী প্রচারণায় কত মানুষ আসছেন, কাজেই দেশের মানুষ ভোটের জন্য মুখিয়ে আছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি ভালো নির্বাচন হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইমামবাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাউলশিল্পী আবুল সরকারের ভক্তদের ওপর হামলা বিষয়ে প্রেসসচিব বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি খুবই ন্যাক্কাজনক ও নিন্দনীয় এবং নিন্দা করি। এ ঘটনায় পুলিশ মামলাও করেছে, আবার অনেকেই গ্রেপ্তারও আছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ একটি সম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির দেশ। সবাই সেটি বজায় রাখবেন। আর আমাদের মধ্যে মতবিরোধ তো থাকবেই। আমরা যদি পারস্পারিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারি তাহলে আগামীতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। আমাদের হিসাবে প্রায় ৬০টি মতো মাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের বাউল সমাজের ভোটাররাও ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন। ওইখানে কোনো আশঙ্কা থাকবে না, যিনি পীরভক্ত, যিনি পীরভক্ত নয়, হিন্দু, মুসলিম, বোদ্ধ, খ্রিষ্টান সব ধর্মের লোক- এমন কি যিনি কোনো ধর্মই বিশ্বাস করেন না, তিনিও ভোট দিতে যাবেন। সবাই মিলে আমরা ভোট দেব।
গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) কিছু আরও সহজ করা হয়েছে। সূচিপত্র কীভাবে হবে, কীভাবে রিপোর্ট করবেন, আপনি কীভাবে তথ্যের ওপরে আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবেন। সেসব বিষয়ে একটা অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে। এই সরকার ১৮ মাস ধরে দেশের দায়িত্বে আছে, এই সময়ের মধ্যে সবকিছু তো সম্ভব না। যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেগুলো নিয়ে এই সরকার কাজ করছে। তবে সব বিষয়ের ওপরই কাজ করার ইচ্ছা এই সরকারের ছিল, কিন্তু সময় স্বল্পতার জন্য সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না।
গণভোটে হ্যাঁ ভোটের ব্যাপারে প্রেসসচিব বলেন, সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ৯ মাস জাতীয় সংস্কার কমিশনের আলোচনা করার পরই এই গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণভোটের গুরুত্ব বুঝেছে বলেই তো এই আলোচনা, আর এর ফসলই হচ্ছে জুলাই সনদ এবং এটাকেই এখন হ্যাঁ ভোটের জন্য দেওয়া হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলগুলো বলছেন, তারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে, কিন্তু নিজেদের প্রচারণা নিয়ে হয়তো একটু ব্যস্ত। দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আমরা বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। সবাই জানবেন যে কেন আমাদেরকে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। হ্যাঁ দিতে হবে এজন্য যে দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার ফিরে না আসে, অপশাসন যেন ফিরে না আসে, আপনার ব্যাংকের টাকা যেন কেউ লুটপাট করতে না পারে।
এ সময় গড়পাড়া ইমামবাড়ির খাদেম আরিফুর রহমান বাবুসহ ইমামবাড়ির ব্যক্তিবর্গ, আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।