পত্নীতলায় পাবজি গেইমে আসক্ত শিক্ষার্থীরা!

পত্নীতলায় পাবজি গেইমে আসক্ত শিক্ষার্থীরা!

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর পত্নীতলায় করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি বন্ধের কবলে পড়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিল ছেড়ে আধুনিক স্মার্ট মোবাইলে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এ খেলায় আসক্ত হচ্ছেন। অভিভাবকরা বাধা দিলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
শুধু শহর নয়, উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এ দৃশ্য নিত্যদিনের। শিক্ষক ও অভিভাবকরা তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। পাড়া-মহল্লায় উঠতি বয়সি শিক্ষার্থীদের আড্ডা ও অনলাইন গেম খেলার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে সৃষ্টি হতে পারে গ্যাং গ্রুপ। শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিল ও খেলাধুলার মাঠ ছেড়ে ফেসবুক, ইউটিউব ও প্রযুক্তি ভিত্তিক কর্মকাণ্ডে তাদের সময় পার করছে। ইমো, ভাইবার, টুইটার ও হোয়াটস অ্যাপে নতুন নতুন ছবি আপলোড ও চ্যাটিং করে সময় নষ্ট করছে। তৈরি করছে টিকটক ভিডিও। এই কাজে ছাত্রীরাও পিছিয়ে নেই। সারাদিন এমনকি রাত জেগে ইন্টারনেটে খেলছে ফাইটিং ফ্রি ফায়ার ও পাবজির মতো নেশা ধরা গেম। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে স্কুল, কলেজ পড়ুয়ারা মোবাইলে এমনভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছেন, যা মাদকের চেয়ে ভয়ংকর। বিকালের সময় উপজেলার অধিকাংশ অঞ্চলে দেখা গেছে কিশোররা ইন্টারনেটে ফ্রি ফায়ার গেম নিয়ে পড়ে আছেন। যাদের বেশির ভাগই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী।

উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীরা ও পুরো যুব সমাজ দিন দিন ফ্রি ফায়ার ও পাবজি নামক গেমের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। যে সময় তাদের ব্যস্ত থাকার কথা নিয়মিত পড়ালেখাসহ শিক্ষা পাঠ গ্রহণ নিয়ে ও খেলার মাঠে ক্রীড়া চর্চার মধ্যে, সেখানে তারা ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে জড়িয়ে পড়ে নেশায় পরিণত করছেন।

উঠতি বয়সের যুবকরা প্রতিনিয়ত অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে এসব গেইমে আসক্ত হচ্ছেন। এসব বিদেশী গেম থেকে শিক্ষার্থী বা তরুণ প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন সচেতন মহল। একজন অসচ্ছল পরিবারের সন্তান ডায়মন্ড ও ইউসি কেনার টাকা যোগান দিতে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপকর্মে।

মাদক বিক্রয় ও কিছু টাকার বিনিময়ে মাদক সেবিদের কাছে মাদক পৌছে দেওয়া তার মধ্যে অন্যতম মাধ্যম। কোমল মতি শিশুদের ১০/২০ টাকা জমিয়ে যেখানে ক্রিকেট বল ফুটবল কেনার কথা, সেখানে তারা টাকা জমিয়ে রাখছে ইউসি/ ডায়মন্ড কেনার জন্য।

ফায়ার গেমসে অনুরাগীরা জানান, প্রথমে তাদের কাছে ফ্রি ফায়ার গেমস ভালো লাগত না। কিছুদিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন তারা আসক্ত হয়ে গেছেন। এখন গেমস না খেলে তাদের অস্বস্তিকর মনে হয়।
আরেক জন ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জানায়, তিনি পূর্বে গেমস সম্পর্কে কিছু জানতেন না। এখন নিয়মিত ফ্রি ফায়ার গেমস খেলেন তিনি। মাঝে মধ্যে গেমস খেলতে না পারলে মুঠোফোন ভেঙে ফেলার ইচ্ছাও হয় তার। তিনি জানান, ফ্রি ফায়ার গেমস যে একবার খেলবে সে আর ছাড়তে পারবে না বলে দাবি তার।

গেম খেলায় ফোনে মেগাবাইট কিনতে খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, এই গেম যখন বিনোদন নেওয়ার জন্য খেলতাম তখন মাসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মেগাবাইট খরচ হতো। মেগাবাইট ছাড়া অন্য কোনো খরচ ছিল না। ধীরে ধীরে যখন এটা ভালো লাগে তখন প্রতিটা ইভেন্টে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ না করলে যেন হয় না। গেমটিতে পুরোপুরিভাবে মনোযোগ দিয়ে যখন খেলি তখন দেখি গেমের ভেতরে এমন কিছু জিনিস আছে যেগুলো না কিনলে নয়। যেমন অলকের দাম ৪০০ টাকা, একটা জার্সি ৩০০ টাকা, নতুন ইভেন্টে আসলেই ২০০০ টাকার নিচে খরচ না করলে হয় না। সম্পূর্ণ ড্রেস কিনতে লাগে ১২০০ টাকা।

একাধিক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বললে অনেকেই বলেন, অলস মস্তিষ্কে শয়তানের বাসা বেঁধেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এভাবে স্কুল, কলেজ বন্ধ না রেখে সামাজিক দূরত্ব মেনে সপ্তাহে গ্রুপ আকারে তিন দিন ক্লাস নেওয়া হলে এমন খেলা করার সময় পেত না অনেকেই। সে জন্য একাধিক অভিভাবক ক্লাসভিত্তিক গ্রুপ করে সপ্তাহে দুই দিন ক্লাস করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে। স্কুল চালু করা না হলে শিক্ষার্থীরা গেম খেলার চেয়েও সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, আমাদের অবসর সময়টি বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্য দিয়ে পার করতাম, কিন্তু এখনকার যুগে তরুণ প্রজন্মের সন্তানদের দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। উপজেলার গ্রামগঞ্জে মোবাইল ইন্টারনেটে গ্রুপ গেম এখন মহামারি আকার ধারণ করছে। তরুণ জেনারেশন এখন ফ্রি ফায়ারের দিকে আসক্ত। যেটা কিনা একটা অনলাইন গেম সেখানে গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে জুয়ার আসর তৈরি হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ পেলেই যথারীতি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া বাদ দিয়ে অনলাইন গেমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে হলে অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল, শিক্ষক-শিক্ষিকা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে এগিয়ে আসা জরুরি।

 

More News...

বিড়ির শুল্ক প্রত্যাহারসহ চার দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেল পৌনে ৮ কোটি টাকা