নাসিক নির্বাচনে নৌকার আইভীর বিরুদ্ধে বিএনপির ৪ নেতা

নাসিক নির্বাচনে নৌকার আইভীর বিরুদ্ধে বিএনপির ৪ নেতা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ নিতে সর্বশেষ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিনিয়র আইনজীবী তৈমূর আলম খন্দকার। এ নিয়ে বিএনপির ৪ জন শীর্ষ নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন। যদিও বিএনপি দলীয়ভাবে এ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা স্পষ্ট করেনি। তবে দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে আপত্তি নেই, এমন ঘোষণার পর একে একে মনোনয়ন কিনেছেন তারা।

জানা গেছে, আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে এবার আগেভাগেই দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বহু জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে গত ৩ ডিসেম্বর নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে। বিগত ১৮ বছর ধরে তিনি নগরকর্তার চেয়ারে রয়েছেন।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বিএনপি। তবে বিগত ইউপি নির্বাচনের আগে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনেই যাবে না বিএনপি। তবে দলের কোনো নেতা স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে দল থেকে বাধা দেয়া হবে না।

এই ঘোষণার সূত্র ধরেই নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আগ্রহ দেখাচ্ছে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে চলছে রীতিমতো রাজনৈতিক খেলা। ৫ ডিসেম্বর প্রথম মনোনয়নপত্র কেনেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও ২০১৬ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান। একই দিন মনোনয়ন কেনেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। ১২ ডিসেম্বর রবিবার মনোনয়ন কেনেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য মুহম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

এর আগে শনিবার পুরো নগরজুড়ে চাউর হয় ২০১১ সালের নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বসিয়ে দেয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমূর আলম খন্দকার নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। তৈমূরও দেশ রূপান্তরের কাছে স্বীকার করেন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাগরিক কমিটির ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন। যিনি এর আগে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। গিয়াসউদ্দিনের হঠাৎ আবির্ভাবে বিএনপির অনেকেই অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বলা হচ্ছে, হেভিওয়েট তৈমূরের প্রার্থিতা ঠেকাতে কোনো এক মহলের ইশারায় মনোনয়ন কিনেছেন গিয়াসউদ্দিন। যদিও মনোনয়ন কেনার পর প্রতিক্রিয়ায় সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন বলেছেন, দল যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই মেনে নেব।

এদিকে সর্বশেষ আজ সোমবার বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তৈমূর আলম খন্দকার।

মনোনয়নপত্র নেয়ার পর প্রেস ব্রিফিং এ তিনি বলেন, আমিই প্রথম নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবক। ২০০৫ সালে আমি যখন বিআরটিসির চেয়ারম্যান তখন এই পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করতে সরকারের কাছে লিখিতভাবে প্রস্তাব দিই। আমি যখন বিআরটিসির চেয়ারম্যান ছিলাম তখন বাস ভাড়া ১ টাকাও বৃদ্ধি করিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিতে ছিলাম তখনো শিক্ষার্থীদের বেতন বাড়াতে দিইনি। আর বর্তমান মেয়র (সেলিনা হায়াত আইভী) নগরবাসীর ট্যাক্স বারবার বাড়িয়ে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আমি জনগণের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলে ট্যাক্স কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনব। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে রাস্তা-ঘাট, খেলার মাঠ, পাঠাগার, মানুষের হয়রানি রোধ করে সেবার পথ উন্মুক্ত করব।

তৈমূর আলম নারায়ণগঞ্জের প্রয়াত নেতা একেএম সামছুজ্জোহা, হাজী জালাল উদ্দিন, আলী আহাম্মদ চুনকা, নাসিম ওসমানসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জে অনেক সংগঠন করেছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

এদিকে তৈমূর আলম খন্দকার মনোনয়ন কেনার পর আইভী শিবির বিচলিত বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে নগরীর দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য কামাল মৃধা বলেন, ‘অনেকে আছে যারা আইভীকে পছন্দ করে কিন্তু নৌকাকে পছন্দ করে না। আবার অনেকে নৌকাকে পছন্দ করে কিন্তু আইভীকে পছন্দ করে না। এ নিয়ে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, নগরকর্তা পরিবর্তন হওয়া দরকার। নগরবাসীরও পরিবর্তন চায়। সে ক্ষেত্রে নাগরিক কমিটির প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার অবশ্যই হেভিওয়েট প্রার্থী। ২০১১ সালে নির্বাচনের কয়েক ঘণ্টা আগে তৈমূরকে বসিয়ে দিয়ে আইভীকে জেতার সুযোগ করে দেয় বিএনপি। অনেকেই তখন বলেছে বিএনপি তৈমূর আলম খন্দকারকে গোসল ছাড়া কোরবানি করেছে। তৈমূরের কান্নায় সেদিন কেঁদেছেন অনেকে। তাই তার প্রতি সাধারণ ভোটারদের একটা সফট কর্নার রয়েছে।

প্রসঙ্গত, তফসিল অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময়। ২০ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই। ২৭ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ২৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ এবং ১৬ জানুয়ারি ভোটযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে।

More News...

বিড়ির শুল্ক প্রত্যাহারসহ চার দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেল পৌনে ৮ কোটি টাকা