ফাহিমের সবকিছু পাওয়ার লোভ ছিল সহকারীর

ফাহিমের সবকিছু পাওয়ার লোভ ছিল সহকারীর

অনলাইন ডেস্ক : রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক বিনিয়োগকারী ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র আসামি তার ব্যক্তিগত সহকারী টেরেস ডেভোন হাসপিল সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, ফাহিমের বিলাসবহুল জীবনের প্রতি রীতিমতো আসক্ত হয়ে পড়েন হাসপিল।

হাসপিল মাত্র ১৬ বছর বয়সে ফাহিমের ব্যক্তিগত সহকারী পদের জন্য আবেদন করেন। ততদিনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফাহিম নিজেকে প্রযুক্তি দুনিয়ায় অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।

ফাহিমের সঙ্গে কাজ শুরুর পর থেকেই তার মতো জীবন-যাপন শুরু করেন হাসপিল। স্টার্টআপের কাজে ফাহিমকে প্রায়ই অন্য দেশে থাকতে হতো, সেই সুযোগে হাসপিল তার বসের বিলাসবহুল বাড়িতে বন্ধুদের ডেকে রাতভর পার্টি করতেন। এমন ভাব করতেন, যেন বাড়িটি তারই।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আইনজীবীদের বরাত দিয়ে এসব কথা জানিয়েছে। পরে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড হাসপিলের এক বন্ধুর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলে সত্যতা খুঁজে পায়।

গত বছর ১৪ জুলাই বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্ট সাইডে নিজের বাসায় খুন হন ফাহিম।

ময়নাতদন্তে বলা হয়, একাধিক কোপের পর তার মৃত্যু হয়েছে। পরে হাসপিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফাহিম প্রযুক্তি জগতে নিজের পথচলা শুরু করেন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে। এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত পাঠাওয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

খুন হওয়ার দিন দুপুর দেড়টার দিকে সিসিটিভিতে ফাহিমকে সর্বশেষ দেখা যায়। ওই সময় একটি ব্যাগ হাতে সন্দেহভাজন হাসপিলকেও দেখা যায়। তারা লিফটের জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, ফাহিম কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে খুনির দিকে তাকান। এরপর লিফটে দুজন একসঙ্গে উঠে যান। ফাহিম সাত-তলায় নিজের ফ্ল্যাটে ঢুকতে গেলেই তাকে আক্রমণ করে খুনি।

বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে তাকে কাটা হয়। করাতটি পাশেই পড়ে ছিল। শরীরের বিভিন্ন অংশ ভরা ছিল একটি ব্যাগে।

হাসপিল ফাহিমের থেকে কয়েক হাজার ডলার ধার নেয়ার পাশাপাশি চুরিও করেন। তবু ফাহিম তাকে ক্ষমা করে অর্থ ফেরতের সুযোগ দেন।

More News...

দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার ইতিহাসে সর্বনিম্ন

ইরানে জোড়া বোমা হামলায় নিহত ৭৩