এক দফার আন্দোলনে সব পেশার মানুষকে রাস্তায় নামার আহ্বান বিএনপির

এক দফার আন্দোলনে সব পেশার মানুষকে রাস্তায় নামার আহ্বান বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির চলমান এক দফার আন্দোলনে শুধু রাজনৈতিক দল নয়, সব পেশার মানুষকে রাস্তায় নেমে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বিএনপি আয়োজিত এক সেমিনারে এই আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম : দুঃশাসনের দেড় দশক’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ।

সেমিনারে গণমাধ্যমের ওপর ‘বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে দুঃশাসনের দেড় দশক (২০০৯-২০২৩)’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ডেনমার্কসহ ৭টি দেশের কূটনীতিকরা এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

ফখরুল বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যেকোনো জাতি যখন তার অধিকারের জন্য লড়াই করে, সংগ্রাম করে তখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হয়। সেখানে সবাইকে কনট্রিবিউট করতে হয়। আজকে শুধু বিএনপি লড়াই করবে বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো লড়াই করবে, অন্যরা বসে থাকবে সেটা হয় না। আজকে সবাইকে নেমে আসতে হবে, সবাইকে রাজপথে নামতে হবে।

সেমিনারে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে এখানে যারা এসেছেন সবাই সচেতন মানুষ। আপনারা জনমত তৈরি করুন। শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্ব আজ আপনাদের সঙ্গে এক হয়েছে। তারা পরিষ্কার করে বলছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই, এখানে নির্বাচন হয় না, মানুষের অধিকার হরণ করা হচ্ছে, মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকে সবাইকে সাহস নিয়ে, বুকে সব শক্তি নিয়ে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা যে ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলাম, আবার সেই গণতন্ত্রকে ফিরে পাওয়ার জন্য, স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করার জন্য, মানুষের অধিকারকে সুরক্ষিত করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের উত্তাল টেউ তুলে এদেরকে সরাতে হবে। চলে যেতে বাধ্য করতে হবে, পদত্যাগ করতে বাধ্য করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আসুন এখন আর কালক্ষেপণ না করে অন্ধকারকে সরিয়ে সূর্যের আলোকে সামনে নিয়ে আসার জন্য সবাই সামনের দিকে এগিয়ে যাই, এই হোক আমাদের আজকের আলোচনার কথা।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, যিনি সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, এখনও করছেন এই অসুস্থ অবস্থায়, এভার কেয়ার হাসপাতালের ডাক্তাররা তার জীবন-মরণ নিয়ে লড়াই করছেন; সেই নেত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রেখেছে সরকার। আজকে তাকে চিকিৎসার সুযোগ পর্যন্ত দিচ্ছে না। আমরা বার বার বলেছি, তার পরিবার থেকে বলা হয়েছে যে, তাকে বিদেশে চিকিৎসা করার সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু সরকার সেটুকু দিচ্ছে না।

সেমিনারে গুম থেকে ফিরে আসা সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল বলেন, যে দেশে মানুষের নিরাপত্তা নেই, সেদেশে স্বাধীনতা শব্দটাই সুদূর পরাহত একটা শব্দ মনে হয়। আমরা কি আসলে স্বাধীন? আমার পরিবারের ওপরে যে নিপীড়ন করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত যেভাবে ফোন দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়, প্রতি মুহূর্তে আমার পরিবারের মানুষ ভাবে আমি কী আবার গুম হয়ে যাব, আমাকে কী আবার তুলে নিয়ে যাওয়া হবে? হতেই পারে। মৃত্যু তো আমি জানি না কোনখানে হবে। কিন্তু আমি নিয়ত পরিষ্কার করেছি, সত্য কথা বলে যাবো।

জামালপুরে সন্ত্রাসীদের হাতে মারা যাওয়া সাংবাদিক গোলাম রাব্বানীর মেয়ে রাব্বাতুন জান্নাত বলেন, আমাদের বকশীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের কমিটির নেতৃত্ব পেয়েছিলো দুইজন রাজাকারের সন্তান। এ সংক্রান্ত সংবাদের জের ধরে ১৪ জুন আব্বুকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়, আব্বু গুরুতর আহত হয়ে ১৫ জুন মারা যান। আমার আব্বুর কী দোষ ছিলো?

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের পরিচালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক শাহিদুজ্জামান প্রমুখ।

গণমাধ্যমের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বিএনপিপন্থি বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বর্তমান সভাপতি এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ।

এছাড়া সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহজাহান ওমর, জয়নাল আবেদীন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

More News...

পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতল বাংলাদেশ

তারা তো ৩৬ মিনিটেরও আন্দোলন করতে পারেনি : ওবায়দুল কাদের