খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম করার সিদ্ধান্ত

খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম করার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : অতি দ্রুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রের এনজিওগ্রাম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বসুন্ধরা এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক বোর্ড। আজ শনিবার দুপুরে মেডিকেলে বোর্ডের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের একুয়েট করোনারি হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার অতি দ্রুত তার হৃদযন্ত্রে এনজিওগ্রাম করার। একই সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড ম্যাডামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণে পরিবারের সদস্যদের ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।’

কখন এই এনজিওগ্রাম করা হবে জানতে চাইলে বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানান, দুপুর আড়াইটা নাগাদ এনজিওগ্রাম করার সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বসুন্ধরা এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে। বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ অবস্থা এবং তার হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করেন বিশেষ চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের বিশেষ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের এই মেডিকেল বোর্ডে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোমিন-উজ জামান ও অধ্যাপক সামস মনোয়ারও রয়েছেন।

সকাল ১০টার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আসেন। তিনি চিকিৎসকদের বোর্ড সভাও ছিলেন।

গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজায় বেগম খালেদা জিয়া হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে রাত তিনটায় ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের গাড়িতে করে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপাসনের অসুস্থতার খবর পেয়ে দ্রুত উত্তরার বাসা থেকে গুলশানে আসেন এবং চেয়ারপারসনকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরপরই খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রের কয়েকটি পরীক্ষা তাৎক্ষণিকভাবে করা হয়।

পরে সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই মুহুর্তে ম্যাডামের অবস্থা স্থিতিশীল। তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরে বিশেষ করে এনজিওগ্রাম করার পরে বুঝা যাবে তার সমস্যাটা কতটা জটিল। এমনিতেই তো বিভিন্ন অসুখে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ একজন রোগী।’

তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার পর ডাক্তাররা ইতিমধ্যে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন সেই পরীক্ষায় মধ্য দিয়ে দেখা গেছে যে, তার আজকে রাতে এবং আগের দিন বিকেল থেকে ম্যাডামের হার্টে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। উনি তো একটু চাপা মানুষ, বলেননি কাউকে। পরে সন্ধ্যায় (শুক্রবার) যখন তাকে দেখতে গেছেন ডা. জাহিদ এবং সিদ্দিক সাহেব, তখন দেখা গেছে যে উনার প্রবলেম হচ্ছে। তখনই রাতে সিদ্ধান্ত হয় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার।

খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্যকামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন তাকে সুস্থ করে দেন, আগের মতো তিনি যেন এই অবস্থা কাটিয়ে উঠবেন।’

৭৭ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

More News...

রোজা রেখেও মাপা যাবে রক্তের সুগার

রমজান উপলক্ষ্যে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মিম