বাবা-দাদির পর সড়কে প্রাণ গেলো রাবি শিক্ষার্থী হিমেলেরও

বাবা-দাদির পর সড়কে প্রাণ গেলো রাবি শিক্ষার্থী হিমেলেরও

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রাণ হারান চারুকলা বিভাগের ছাত্র মাহমুদ হাবিব ওরফে হিমেল। হিমেলের পরিবারের জন্য সড়ক যেন মরণ কল। কারণ, চার বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তার আহসান হাবীব ও মা মুনিরা আক্তার।

সে যাত্রায় তার মা বেঁচে গেলেও দুর্ঘটনা-পরবর্তী জটিলতায় মারা যান হিমেলের বাবা। পরের বছর আরেক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার দাদি আমেনা বেওয়া। আর গতকাল সড়কে প্রাণ দিলেন হিমেল নিজে!

হিমেলের মরদেহ আজ বুধবার দুপুরে যখন নাটোর শহরে তার নানাবাড়িতে পৌঁছায়, মা মুনিরা আক্তার তখন ছিলেন নির্বাক। কারও সঙ্গেই তিনি কথা বলেননি।

হিমেলের নানা মনিরুজ্জামান জানান, একটার পর একটা সড়ক দুর্ঘটনা তার মেয়ের জীবন দুর্বিষহ করে ফেলেছে। চার বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন মাহমুদের বাবা–মা। সেই জটিলতায় বছরখানেক ভুগে মারা যান আহসান হাবীব। মুনিরা প্রাণে রক্ষা পেলেও মানসিক রোগীতে পরিণত হন। এখনো তার চিকিৎসা চলছে।

তিনি আরও বলেন, আহসান হাবীবের মৃত্যুর পর তার মা আমেনা বেওয়া শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। মুনিরা আক্তার তখন একমাত্র সন্তান মাহমুদকে নিয়ে নাটোরে তার কাছে চলে আসেন। মাহমুদ পড়ালেখার জন্য রাজশাহীতে থাকতেন। মাকে দেখতে মাঝেমধ্যে তিনি নাটোরে আসতেন। মায়ের ইচ্ছা ছিল, পড়ালেখা শেষে ছেলে চাকরি করবে। সবাই একসঙ্গে থাকবে। সেই স্বপ্ন চিরদিনের মতো শেষ হয়ে গেলো!

More News...

জাতীয় প্রেসক্লাবে বিড়ি শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

কৃষকদের টাকা দিলে ফেরত দেয়, কোটিপতিরা দেয় না’