ভাসানচরে যাচ্ছে আরও ৭১৮ রোহিঙ্গা

ভাসানচরে যাচ্ছে আরও ৭১৮ রোহিঙ্গা

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে দশম দফায় নোয়াখালীর ভাসানচরে যাচ্ছে আরও ৭১৮ রোহিঙ্গা। স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক মিয়ানমারের এই নাগরিকদের নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ১৩টি বাস।

এর আগে সকালে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা দিয়ে রোহিঙ্গাদের সপরিবারে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে নিয়ে আসেন।

ভাসানচরে অবস্থানরত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি (সিআইসি) তানবির আহমেদ বলেন, ‘ভাসানচরে উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের একটি দল ক্যাম্প ত্যাগ করেছেন। মূলত তারা চট্টগ্রামে রাতে পৌঁছবেন। পরের দিন সকালে সেখান ভাসানচরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আমরাও সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

এ বিষয়ে ৮-এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন জানান, দশম দফায় শিবিরগুলো থেকে এবারে ১২’শ রোহিঙ্গা ভাসানচরে যাওবার কথা রয়েছে। একটি দল ইতোমধ্যে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে ক্যাম্প ত্যাগ করেছে।

এদিকে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে নবম দফায় ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে সরকার ভাসানচরে পাঠায়। এ ছাড়া গত বছর মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করা ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে রাখা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

প্রসঙ্গত,মিয়ানমারের সেনাদের অভিযান থেকে প্রাণে বাঁচতে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। এদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযানের সময়ে পালিয়ে এসেছিলেন। শরণার্থীদের চাপ কমাতে দুই বছর আগে অন্তত ১ লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

More News...

জাতীয় প্রেসক্লাবে বিড়ি শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

কৃষকদের টাকা দিলে ফেরত দেয়, কোটিপতিরা দেয় না’