লেনদেন বাড়ছে শেয়ারবাজারে

লেনদেন বাড়ছে শেয়ারবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিসেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহেও গড়ে পুরো দিনে ৮০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। একদিনের লেনদেন ৬০০ কোটি টাকার ঘরেও নেমেছিল। চলতি বছরের শুরুতে লেনদেন বৃদ্ধি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টাতেই ৮০০ কোটি টাকার ওপর শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, অব্যাহত দরপতনের কারণে ডিসেম্বরে শেয়ার লেনদেন অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এখন শেয়ারদর বাড়ার কারণে নতুন করে বিনিয়োগ আসছে। আর শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু মুনাফা হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী পুনরায় বিনিয়োগ করার সক্ষমতা ফিরে পাচ্ছেন।

তবে লেনদেনের সিংহভাগই গুটিকয় শেয়ার; বিশেষত টানা দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ার ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। বুধবার ডিএসইতে ৩৭৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ১ হাজার ৪১৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। এর মধ্যে লেনদেনের শীর্ষ ৫ কোম্পানিরই শেয়ার লেনদেন ছিল মোটের চার ভাগের একভাগ।

এদিকে শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। বুধবারের মতো বৃহস্পতিবারও সকাল ১০টায় অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধি দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়েছিল। দুপুর ১২টায় লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সে ধারা অব্যাহত থাকতে দেখা গেছে। লেনদেন চলবে যথারীতি দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।

অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির প্রভাবে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬৯৭৮ পয়েন্টের ওপর অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে লেনদেনের আধা ঘণ্টা পর সূচকটি ৭০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করে ৭০০৪ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল।

সূচক বৃদ্ধিতে বৃহৎ বাজার মূলধনী কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির ভূমিকা তুলনামূলক কম। অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির এক্ষেত্রে ভূমিকা বেশি। বড় শেয়ারগুলোর মধ্যে বিকন ফার্মা ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ছাড়া বাকিগুলোর দর তেমন কমেনি। ফলে সূচকে সে অর্থে নেতিবাচক প্রভাব কম।

আজ লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ডিএসইতে ৮০৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। বুধবার একই সময়ে ৭২৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। এর আগের দিন মঙ্গলবার প্রথম দুই ঘণ্টায় ৪৫৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। অর্থাৎ লেনদেন ক্রমে বাড়ছে।

ডিএসইর খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওষুধ ও রসায়ন, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং কাগজ ও ছাপাখানা খাত ছাড়া বাকি সব খাতের অধিকাংশ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

তুলনামূলক বেশি বেড়েছে ব্যাংক খাতের শেয়ারের দর। দুপুর ১২টায় খাতটির ৩২ কোম্পানির মধ্যে ৩০টিরই কম-বেশি দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। সূচকে এ খাতের প্রভাবই বেশি দেখা যাচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ারদর বৃদ্ধির ধারা আজও অব্যাহত আছে। মাত্র ১০ কার্যদিবসে শেয়ারটি ৪৯ টাকা থেকে ১০৪ টাকা ৫০ পয়সা দর উঠেছে।

তুলনামূলক ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারগুলোর মধ্যে দুপুর ১২টায় ডেল্টা লাইফ, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, লাফার্জ-হোলসিম শেয়ার লেনদেনের ওপর দিকে এবং দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়।

ডেল্টা লাইফের শেয়ারদর গতকালের তুলনায় ১২ টাকা ৬০ পয়সা দর বেড়ে ২০৭ টাকা ৪০ পয়সায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। যদিও লেনদেনের শুরুতে ২১৪ টাকা ২০ পয়সা দরেও শেয়ারটি কেনাবেচা হয়েছিল।

এ দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে শীর্ষ এক গণমাধ্যমের খবর প্রধান ভূমিকা রাখছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কোম্পানিটিতে নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেবে। প্রশাসক ব্যবস্থা তুলে নেবে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। বুধবার অর্থমন্ত্রণালয়, আইডিআরএ, বিএসইসি এবং কোম্পানির স্থগিতকৃত পর্ষদের এক সদস্যের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয়ে এ বৈঠকটি হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এ তথ্য সঠিক নয় মর্মে সমকালকে নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, বৈঠকে এ ধরনের কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আইডিআরএ চেয়ারম্যান এ বিষয়ে সমঝোতা করতে চান বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে।

দুপুর ১২টায় ডিএসইতে ১০ শতাংশ দর বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল ওয়েস্টিন মেরিন শিপইয়ার্ড নামক কোম্পানির শেয়ার। ৯ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত দর বেড়ে এর পরের অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, মির আকতার লিমিটেড, আল-হাজ্ব টেক্সটাইল এবং এনআরবিসি ব্যাংক।

৬৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ডেলটা লাইফের প্রায় ২৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

More News...

জাতীয় প্রেসক্লাবে বিড়ি শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

কৃষকদের টাকা দিলে ফেরত দেয়, কোটিপতিরা দেয় না’