তিনতলা থেকে কাপড় বেঁধে নিচে নামেন মমতাজ

তিনতলা থেকে কাপড় বেঁধে নিচে নামেন মমতাজ

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি : ঢাকায় চিকিৎসা শেষে অভিযান-১০ লঞ্চে নিজ বাড়ি বরগুনার বামনা উপজেলায় স্বামী গোলাম রহমানকে নিয়ে ৩৬০ নম্বর কেবিনে ফিরছিলেন ষাটোর্ধ্ব মমতাজ বেগম।

লঞ্চটি বরিশাল লঞ্চঘাটে শেষ নোঙর করার পর রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী পার হয়ে বিষখালীর মোহনায় পৌঁছার পর আগুনের বিষয়টি টের পান তারা। ততক্ষণে আগুন লঞ্চটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্থানে পৌঁছে গেছে।

তারা দুজনে দৌড়ে কেবিন থেকে বেড় হয়ে সিঁড়ির কাছে গিয়ে দেখেন গেট বন্ধ। অনেক ধাক্কাধাক্কি করেও তারা গেট খুলতে না পেরে তিনতলার রেলিংয়ে মমতাজের শাড়ি বেঁধে স্বামী গোলাম রহমান তাকে কোনোমতে দ্বিতীয় তলায় নামান। পরে তিনি নিজেও ওই শাড়ি বেয়ে দ্বিতীয় তলায় নামেন। বৃদ্ধ অসুস্থ স্ত্রীকে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে জলে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ দিয়ে স্ত্রীকে ধরে কোনোমতে তীরে ওঠেন। এতে স্ত্রী মমতাজ বেগমের কোমরে এবং মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। স্থানীয়রা তাকে গরম কাপড় দিলে তারা দুজনেই গ্রামের বাড়ি বামনায় ফিরে আসেন। তারা বর্তমানে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় রাজধানী থেকে পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসছিল লঞ্চটি। তাইফার স্বজনরা যুগান্তরকে জানান, তাইফার নানা আলী শিকদার ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় অবস্থান করছিল তাইফা ও তার বাবা বশির। ডাক্তার দেখানো শেষ হলে বৃহস্পতিবার বিকালে সদরঘাট থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে চড়েন তারা। লঞ্চটি ঘাট থেকে ছেড়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন সুগন্ধা নদীতে এলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

More News...

জাতীয় প্রেসক্লাবে বিড়ি শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

কৃষকদের টাকা দিলে ফেরত দেয়, কোটিপতিরা দেয় না’