মাদক সেবন করতেন মেয়র শাহানশাহ, বেশি আসক্ত হেরোইনে

মাদক সেবন করতেন মেয়র শাহানশাহ, বেশি আসক্ত হেরোইনে

নিজস্ব প্রতিবেদক : মহান বিজয় দিবসের দিন শিক্ষা কর্মকর্তাকে চড় মেরে হারান দলীয় পদ। বরখাস্ত হন মেয়র পদ থেকেও। সমালোচনার মধ্যে নিজেকে বাঁচাতে জামালপুর থেকে চলে আসেন ঢাকায়।

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে ওঠেন রাজধানীর উত্তরার হোটেল ডি মেরিডিয়ানে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই মাদকসহ ধরা পড়েন র‍্যাবের জালে।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে হোটেল থেকে গ্রেফতারের সময় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার বরখাস্ত মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহের কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও সাড়ে তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জাগো নিউজকে বলেন, নিজেকে গোপন করতে রাতে হোটেলটিতে ওঠেন দেওয়ানগঞ্জের বরখাস্ত হওয়া এই মেয়র। নিয়মিত মাদক সেবন করেন শাহনেওয়াজ। হোটেলের যে কক্ষে তিনি ছিলেন গ্রেফতারের সময় সেখান থেকে জব্দ করা হয় গাঁজা, হেরোইন ও ফেনসিডিল।

র‍্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, বরখাস্ত হওয়া এই মেয়র প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করতেন। বিশেষ করে হেরোইনে বেশি আসক্ত ছিলেন। গতরাতেও হেরোইন সংগ্রহ করে সেবন করেছিলেন। গ্রেফতারের সময় তাকে নেশাগ্রস্ত দেখা গেছে।

গ্রেফতার শাহনেওয়াজকে এখন র‍্যাব কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সংবাদ ব্রিফিং করে তার ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবে র‍্যাব।

গত ১৬ ডিসেম্বর জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সরকারি হাইস্কুল মাঠে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মেহের উল্লাহকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে থাপ্পড় মারেন মেয়র শাহানশাহ। পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় নামের সিরিয়াল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ এরপর থানায় মামলা করেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ হয়।

এরপর অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে পৌর মেয়রের পদ থেকে শাহানশাহকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

একই সঙ্গে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদে ছিলেন।

More News...

জাতীয় প্রেসক্লাবে বিড়ি শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

কৃষকদের টাকা দিলে ফেরত দেয়, কোটিপতিরা দেয় না’