নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করতেই বিজিবি সদস্যকে হত্যা

নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করতেই বিজিবি সদস্যকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ২৮ নভেম্বর দেশব্যাপী ৩য় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে নীলফামারী জেলার গড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনায় বিজিবি সদস্য নায়েক রুবেল হোসেন নির্মমভাবে নিহত হন। নিহতের ঘটনায় মূলহোতা ও প্রধান আসামি মো. মারুফ হোসেন ওরফে অন্তিককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব বলছে, গ্রেপ্তার মারুফ ওই ইউনিয়ন পরিষদে জাতীয় পার্টি থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মারুফ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের তুলনায় সামান্য পিছিয়ে ছিল। এরপর তিনি ওই কেন্দ্রের সম্পূর্ণ ভোট তার পক্ষে দেয়ার জন্য প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে আটকে রেখে চাপ দিতে থাকেন।

প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অপারগতা প্রকাশ করলে গ্রেপ্তার মারুফ তার প্রায় শতাধিক সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা করে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুরুতর জখমের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নায়েক রুবেল ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাহিনীর লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ললিত চন্দ্র রায় বাদী হয়ে গত ৩০ নভেম্বর ৯৫ জন আসামির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও অনেকের নামে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

এরপর র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৪ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি সদস্য হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. মারুফ হোসেন ওরফে অন্তিককে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার মারুফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাব জানায়, তার নির্বাচনী মূল্যায়ণ অনুযায়ী নির্বাচনে জয়লাভ করতে তার স্থায়ী এলাকার গড়াগ্রাম ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্র পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রায় সব ভোট প্রয়োজন। যেকোনো মূল্যে তিনি এই কেন্দ্রের প্রায় সব ভোট তার অনূকূলে নিতে পেশীশক্তি ব্যবহার করবে বলে পরিকল্পনা করে। মারুফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকেই কেন্দ্র দখল ও প্রয়োজনে হামলা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।

র‍্যাবের মুখপাত্র আরও জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোট চলাকালীন বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে তার পক্ষের আনুমানিক ২০/৩০ জন সমর্থক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ভোটকেন্দ্রে অনাধিকার প্রবেশ করে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করে। ভোটকেন্দ্রের কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিতে চেষ্টা করলে তারা তাদের গালিগালাজসহ শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।

পরবর্তীতে প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে মোবাইলে ঘটনা অবহিত করলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে ভোটগ্রহণ সাময়িক স্থগিত করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ টহল দল ঘটনাস্থলে এসে পরিবেশ স্বাভাবিক করে। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোটগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে ভোট গণনা শুরু করা হয়। কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ৯৭১ ভোটের মধ্যে গ্রেপ্তার প্রার্থীর পক্ষে ২ হাজার ৩৩৬ ভোট ও অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী যথাক্রমে ৭০টি ও ০৬টি ভোট পায়। এরই মধ্যে অন্য ৮টি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের তুলনায় সামান্য পিছিয়ে থাকায় সে ফলাফল পরিবর্তনের জন্য (সম্পূর্ণ ভোট তার পক্ষে দেয়ার জন্য) প্রিজাইডিং অফিসারকে আটকে রেখে চাপ দিতে থাকে।

র‍্যাব মুখপাত্র আরও জানান, প্রিজাইডিং অফিসার অপারগতা প্রকাশ করলে প্রায় শতাধিক সমর্থক নিয়ে বিভিন্ন ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা করে মারুফ। এসময় নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত সরকারি যানবাহন ও নির্বাচন কেন্দ্রে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়।

এরপর রাত সাড়ে ৮টার সময় বিজিবির টহল দল উপস্থিত হলে গ্রেফতার মারুফ হোসেন ও তার সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর চড়াও হয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুরুতর জখমের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নায়েক রুবেল ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন এবং আরও অনেকেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

র‌্যাব আরও জানায়,গ্রেপ্তার মারুফ হোসেনের বাবা মৃত মোসাদ্দেক হোসেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় গড়াগ্রাম ইউনিয়নের ১৯ বছর ধরে চেয়ারম্যান ছিলেন। তার বাবা গত ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করলে মারুফ উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত হয়।

More News...

৪ মে থেকে বাড়ছে ট্রেনের ভাড়া

কোন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল?