ইলিশ না পেয়ে হতাশা নিয়ে ফিরছে সাগরের জেলেরা

ইলিশ না পেয়ে হতাশা নিয়ে ফিরছে সাগরের জেলেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্রে গিয়ে বড় সাইজের ইলিশ ধরার স্বপ্ন ছিল জেলেদের। কিন্তু সমুদ্রে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ। ৭/৮ দিন সমুদ্রে থেকে ট্রলারের যে খরচ হয়েছে, তীরে এসে মাছ বিক্রিতে বাজার খরচও ওঠেনি। ফলে উপকূলের জেলেপল্লীতে বিরাজ করছে এক শূন্যতা।

জেলে পেশায় আগ্রয়েহ হারি ফেলছেন জেলে পল্লীর পরিবারগুলো। সমুদ্রে ইলিশ না মেতেলায় কিছুই শোধ করা যাচ্ছে না মহাজনের ঋণ। আর অভাব-অনটন পিছু ছাড়ছে না এসব দরিদ্র জেলে পরিবারগুলোর।

প্রায় দুই লাখ টাকার বাজার নিয়ে ৭ দিন সমুদ্রে থেকে ইঞ্জিনের ত্রুটি নিয়ে ঘাটে ফিরেছে এফবি জিহাদ নামের একটি মাছ ধরা ট্রলার। তাদের ট্রলারে ১৬ কেজি ইলিশ, ৪টি গোলপাতাসহ সামান্য কিছু টোনাফিস দেখা গেছে। যা আড়ৎে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রয় হয়েছে।

বুধবার দুপুরে মহিপুর মৎস্য বন্দরে ট্রলার মাঝি আ. জলিলের চোখে-মুখে দেখা গেছে হতাশার চিহ্ন। জলিল বলেন, ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে আশা নিয়ে সমুদ্রে গিয়েছিলাম। কিন্তু ফিরে এসে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এতে ট্রলারের খরচও ওঠেনি। ১৮ জন জেলের পরিবারগুলোর কি অবস্থা হবে?

এর আগে গত রোববার রাতে দেড় লক্ষ টাকার বাজার নিয়ে পাথরঘাটা ঘাট থেকে সমুদ্রে যায় এফবি তাওহীদ নামের একটি মাছ ধরা ট্রলার। ৩/৪ দিন পর সমুদ্র থেকে ইঞ্চিনের নাট ভেঙে আলীপুর ঘাটে এসে ৫৫ হাজার টাকার ছোট সাইজের ইলিশ বিক্রয় করেছেন তারা।

মাঝি ছগির হোসেন গাজী বলেন, দেড় লক্ষ টাকার বাজার নিয়ে সমুদ্রে গেলাম, মাছ বিক্রয় করলাম ৫৫ হাজার টাকা। এই লসের বোঝা মাথায় নিয়ে আবার সমুদ্রে যাবো।

আলীপুর মৎস্য আড়তের ট্রলার মালিক মো. আল-আমিন হাওলাদার বলেন, আমার একটি ট্রলার সমুদ্রে আছে। গত সাতদিনে ১০টি ইলিশ পেয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ট্রলার বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান বলেন, আড়ৎ-পল্লীর আড়ৎদাররা তাদের স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে বর্তমানে ব্যবসা ঠিক রাখছেন। এখন মাছ না পেলে পালিয়ে এলাকা ছাড়তে হবে।

উল্লেখ্য, ৬৫ দিনের অবরোধ শেষ হয়েছে গত ২৩ জুলাই। ২৪ জুলাই জেলেদের সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যাওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেতে পারেনি। এরপর গত ২৭-২৮ জুলাই মাছ ধরা ট্রলারগুলো সমুদ্রে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ট্রলারই ইলিশের সন্ধান পায়নি।

More News...

জাতীয় প্রেসক্লাবে বিড়ি শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

কৃষকদের টাকা দিলে ফেরত দেয়, কোটিপতিরা দেয় না’