বাংলাদেশকে ২৩ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশকে ২৩ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল জিম্বাবুয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক : শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩১ রান। স্ট্রাইকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন। খাতা-কলমে জয়ের আশা তখনও শেষ হয়ে যায়নি টাইগারদের। আর তার জন্য অবিশ্বাস্য কিছু করতে হতো সাইফউদ্দীনকে।

প্রথম বল ওয়াইড হওয়ায় সমীকরণটা ৬ বলে নেমে আসে ৩০ রানে। এরপর উইকেটের পেছনে সাইফউদ্দীনের চার। কিন্তু পরের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার হাতে বন্দী হয়ে সাজঘরে এই অলরাউন্ডার।

১৬৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৫ ওভারে বাংলাদেশ থামে ১৪৩ রানে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২৩ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরল জিম্বাবুয়ে। এর আগে ওয়েসলি মাধেভেরের দুর্দান্ত ফিফটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান করে সিকান্দার রাজার দল। ম্যাচ সেরাও হয়েছেন জিম্বাবুয়েন ওপেনার।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতে মোহাম্মদ নাঈম (৫) ও সৌম্য সরকারকে (৮) হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে এই দুই ওপেনারের ফিফটিতে বড় জয় পেয়েছিল টাইগাররা। এবার নিজেদের ইনিংস বড় করতে পারলেন তারা। নাঈমকে বোল্ড করার পর সৌম্যকে রাজার হাতে ক্যাচ বানান ব্লেসিং মুজারাবানি।

দলকে খাদের কিনারে রেখে ফেরেন সাকিব আল হাসানও (১০)। দলীয় ৪৫ রানে মাসাকাদজার বলে সিকান্দার রাজার হাতে বন্দী হন দেশ সেরা অলরাউন্ডার। দলের দুঃসময়ে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৪)। টাইগার অধিনায়ককে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান মাসাকাদজা।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পরপরই মাসাকাদজার তৃতীয় শিকার হন মেহেদি হাসান (১৫)। উইকেটরক্ষক ‍নুরুল হাসান সোহান ফেরেন ব্যক্তিগত ৯ রানে। দ্রুত ৬ উইকেট হারিয়ে শতরানের নিচে অলআউট হওয়ার সামনে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তবে ক্ষীণ হয়ে যাওয়া টাইগারদের জয়ের আশা জাগিয়ে তোলেন অভিষিক্ত শামীম হোসেন। ১৩ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে ২৯ রানের ক্যামিও উপহার দিয়ে জংয়ের বলে ফেরেন তিনি।

এরপর ঢাল হয়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন আফিফ হোসেন। কিন্তু চেষ্টা করেও পারেননি তিনি। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ব্যক্তিগত ২৪ রানে তেন্দাই চাতারার দ্বিতীয় শিকার হন আফিফ। দলীয় ১৪১ রানে শেষ আশা সাইফউদ্দীন আউট হওয়ার পর স্কোরবোর্ডে আর মাত্র দুই রান যোগ হতেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ উইকেট তাসকিন আহমেদকে (৫) তৃতীয় শিকার বানান জংওয়ে। অপরাজিত থাকেন শরিফুল ইসলাম (০)।

এর আগে শুক্রবার হারারেতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। স্বাগতিক শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন মেহেদী। ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে (৩) বোল্ড করেন এই স্পিনার।

এরপর উইকেটরক্ষক রেগিস চাকাবাকে (১৪) নিজের প্রথম শিকার বানান সাকিব। দুই সতীর্থকে হারানোর পর ডিয়ন মায়ার্সকে নিয়ে ৫৭ রানের জুটি গড়েন মাধেভেরে। তাদের এই জুটি ভাঙেন শরিফুল। ২১ বলে ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন মায়ার্স।

তবে টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় ফিফটি করে জিম্বাবুয়েকে টেনে নিতে থাকেন মাধেভেরে। শরিফুলের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে সাজঘরে ফেরার আগে ৫৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে ৭৩ রান করেন তিনি। তার আগে রাজাকে (৪) রান-আউট করেন সৌম্য।

শেষদিকে ১৯ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে অপরাজিত ৩৪ রানের ক্যামিও উপহার দেন রায়ান বার্ল। ইনিংসের শেষ বলে জংওয়েকে (২) নিজের তৃতীয় শিকার বানান শরিফুল।

দুই দল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি খেলবে ২৫ জুলাই, হারারেতে। এই ম্যাচ দিয়ে নির্ধারিতি হবে সিরিজ।

More News...

তানজিদের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, বড় রান চট্টগ্রামের

কার্ডিওলজিস্ট হওয়ার ইচ্ছে মেডিকেলে প্রথম হওয়া সর্বার