ইয়াসের প্রভাবে উপকূল ও ঢাকায় ঝড়-বৃষ্টি

ইয়াসের প্রভাবে উপকূল ও ঢাকায় ঝড়-বৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক : মে মাসজুড়েই চলেছে তাপপ্রবাহ। তার সঙ্গে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যোগ হয়েছে গুমোট আবহাওয়া। এতে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় অসহনীয় গরম অনুভূত হয় সারাদেশে। এরমধ্যেই সোমবার পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকার গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে সরে আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। এর প্রভাবে বিকেল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকায়ও রাত পৌনে ১০টার দিকে আকাশ কালো হয়ে নামে ঝড়-বৃষ্টি। এতে গত কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমের অবসান ঘটে। বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আতঙ্ক কাটছে না।

আবহাওয়াবিদ মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ক্রস (অতিক্রম করে যাওয়া ঝড়-বৃষ্টি নয়) করা ঝড় না এটা, প্যারিফেরিয়াল উইন্ড হয়। একটা বড় সিস্টেম যখন সমুদ্রে থাকে, তখন বজ্র-মেঘ হয় আশেপাশে। অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বজ্র-ঝড় হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব এখনও বাংলাদেশের সীমানায় আসেনি। এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা স্থানীয় আবহাওয়ার কারণে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আকাশে মেঘমালা তৈরি হয়েছে। তারই প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে।

বাংলাদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে পাক খেতে থাকা ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ঘণ্টায় সাত কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে উত্তর-উত্তর পশ্চিমে, ভারতের ওডিশা আর পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে। পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরের বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে বুধবার প্রথম প্রহরেই ওডিশার উত্তর উপকূল, পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এবং খুলনা এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি অতিক্রম করতে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা।

সে সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার। আগামী ১২ ঘণ্টায় শক্তি সঞ্চয় করে ইয়াস প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে। পরের ২৪ ঘণ্টায় আরও শক্তি নিয়ে হয়ে উঠবে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে বুধবার সকাল নাগাদ ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাবে। ওই দিন দুপুর নাগাদ ওডিশার পারাদ্বীপ এবং পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যে ওডিশার বালাসোরের কাছ দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

More News...

জাতীয় প্রেসক্লাবে বিড়ি শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

কৃষকদের টাকা দিলে ফেরত দেয়, কোটিপতিরা দেয় না’