গাজায় রাতভর হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৭

গাজায় রাতভর হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান হামলা গড়িয়েছে টানা দশম দিনে। এ সংঘাত কমার কোনো লক্ষণই আপাতত দেখা যাচ্ছে না। বুধবার (১৯ মে) রাতেও ভূখণ্ডটিতে হামলা অব্যাহত রাখে দেশটি। টানা এই হামলায় বুধবার আরও ৯ জন নিহত হয়েছেন। এতে করে গত দশদিনে ইহুদি এই দেশটির হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ২২৭ জনে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জন শিশু এবং ৩৮ জন নারী রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গাজার রাস্তা, ভবন, হামাসের প্রশিক্ষণ শিবির ও ঘরবাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের বেশির ভাগ জায়গায় রাতভর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, সংঘর্ষ ও হামলার দশম দিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আলোচনায় নেতানিয়াহুকে বাইডেন বলেছেন, অস্ত্রবিরতি কার্যকর করতে উভয়পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেতে দেখতে চান তিনি।

অবশ্য, বাইডেনের সঙ্গে ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত’ গাজায় হামলা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর তিনি। এছাড়া হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে কার্যকর অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়নে কূটনৈতিক বিভিন্ন উদ্যোগও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

বুধবার রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার মাধ্যমে গাজায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪০০ ভবন গুড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ধ্বংস হয়ে যাওয়া এই ভবনগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রও রয়েছে।

এছাড়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত গাজার কমপক্ষে অর্ধলক্ষ ফিলিস্তিনি ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ইসরায়েলের বিমান হামলা ও কামানের গোলার আঘাত থেকে বাঁচতে নারী-শিশুসহ অসংখ্য বেসামরিক মানুষ জাতিসংঘ পরিচালিত ৫৮ টি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজায় অনেক হামাস সদস্যের বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। এই বাড়িগুলোতে বসবাসের পাশাপাশি হামাসের সাংগঠনিক বৈঠক ও অস্ত্রের মজুত করা হতো বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাসের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক থাকার কারণে সাম্প্রতিক এই সংঘাতে ব্যাপক চাপে আছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। গত মাসে দেশের জাতীয় নির্বাচন স্থগিত করেছিলেন তিনি এবং তখন হামাস এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছিল।

সূত্র: আলজাজিরা

More News...

রাইসির প্রতি জাতিসংঘের শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান বয়কট যুক্তরাষ্ট্রের!

কোন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল?