ইউরোপে যাবে সাতক্ষীরার ৫০০ মেট্রিকটন আম

ইউরোপে যাবে সাতক্ষীরার ৫০০ মেট্রিকটন আম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় বাজারে উঠতে শুরু করেছে সুস্বাদু বিষমুক্ত পাকা আম। শহরের সুলতানপুর বড় বাজারে আম চাষিদের পদচারণায় পা রাখার জায়গা নেই। আম কেনাবেচায় গ্রামীণ আর্থনীতি যেন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

এ বছরও সাতক্ষীরার বিষমুক্ত সুস্বাদু ৫০০ মেট্রিকটন আম রপ্তানি হবে ইউরোপের বাজারে। এজন্য জেলার কলারোয়া, তালা, সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি ও দেবহাটাসহ মোট ৫টি উপজেলার ৩৫০ জন আমচাষিকে আগে থেকে কৃষি সম্প্রসাধণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আম উৎপাদন করা হয়েছে।

অনুকূল আবহাওয়া আর মাটির গুণাগুণের কারণে দেশের অন্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরার আম আগেভাগেই পাকে। তাই মধুমাস জ্যৈষ্ঠ আসার অগেই সাতক্ষীরার সুলতানপুরের বড় বাজারে উঠতে শুরু করেছে বিষমুক্ত গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাইসহ বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদুু দেশি আম।

জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিকতায় ১৮ বৈশাখ থেকে পরিপক্ত পাকা আম পাড়া শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরয় বিশ্বমুক্ত সুস্বাদু ৫০০ মেট্রিকটন আম ৩ মে প্রথম ধাপে প্রথমবারের মতো জার্মানের ফ্রাঙ্গফুড শহরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিপমেন্ট জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামি ৯ মে থেকে গ্লোব ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড কোম্পানি প্রথম শিপমেন্টে কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা গ্রামের ডাবলু হোসেনের বাগান থেকে ১ মেট্রিক টন গোবিন্দভোগ আম রপ্তানি করবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। পরবর্তিতে প্রতিবারের ন্যায় গোপালভোগ, হিমসাগর ও আমের রাজা ল্যাংড়া যাবে জার্মান, ফ্রান্স, ইতালিসহ ইংল্যান্ডের বাজারে।

এদিকে সাতক্ষীরা শহরের বড়বাজারে জেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ থেকে নানা পরিবহনযোগে আসতে শুরু করেছে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস, খিরসারাইসহ নানা জাতের আম। রঙ-বেরঙের নানা প্রজাতির আমে ভরপুর হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরার বড়বাজার। তবে করোনাকালীন লকডাউনের কারণে ক্রেতাশূন্য বাজার।

আমের বাজারমূল্য মণপ্রতি ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমচাষিরা। সরেজমিনে বড়বাজার আমের আড়তগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিমণ গাবিন্দভোগ আম বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে। গোপালভোগ প্রতিমণ ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা। আর দেশি আম প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা দরে। আবহাওয়া ও গ্রীষ্মের তীব্র খরায় এবং দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টির কারণে আমের আকৃতি এবার ছোট হওয়ায় দামও পাচ্ছে না কৃষকরা।

ঢাকা ও চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বড় বড় আম ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা না আসার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরা কাঁচা ও পাকামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু জানান, সাতক্ষীরায় এ বছর আমের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছে না কৃষকরা। অতি খরায় ও বৈশাখের তীব্র তাপদাহে আম আকৃতিতে ছোট হওয়ার কারণে দাম কমে গেছে। এছাড়া করোনাভাইরাস ও লকডাউনের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আম ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরায় না আসার কারণে আমের বাজারমূল্য অনেকটা কম আছে। মূলত এসব কারণে আমের প্রকৃত বাজারমূল্য পাচ্ছে না আমচাষিরা।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ীর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম জানান, এ বছর জেলায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে আমের চাষ হয়েছে। পরিসংখ্যানে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়। পার হেক্টরে ৯ থেকে ১০ টন ফলন হবে।

তিনি আরও জানান, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১৭শ’ ৩১ মেট্রিকটন আম বিদেশে রপ্তানি হবে। তার মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা থেকে ৫০০ মেট্রিকটন গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালি, হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম রপ্তানি হবে ইউরোপে। ইসলাম গ্রুপ, আর আর এন্টারন্যাশনাল, বুলবুল ভূইয়া কর্পোরেশন, গ্লোব ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড কোম্পানিসহ মোট ১৪টি বায়ার কোম্পানি সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম পর্যায়ক্রমে জার্মান, ফ্রান্স, ইতালি, ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাজারজাত করবে। প্রথম ধাপে আগামি ৯ মে কলারোয়ার কৃষক মো. ডাবলু হোসেনের বাগান থেকে এক মেট্রিকটন গোবিন্দভোগ আম প্রথমবারের মতো জার্মানে যাবে। বাংলাদেশ জার্নাল

More News...

বিড়ির শুল্ক ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে রংপুরে জনসভা

বিড়ি শিল্পের শুল্ক প্রত্যাহারসহ পাঁচ দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন