খেটে-খাওয়া মজুরদের কষ্ট বাড়িয়েছে তাপপ্রবাহ

খেটে-খাওয়া মজুরদের কষ্ট বাড়িয়েছে তাপপ্রবাহ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : ‘সরকার তো লকডাউন দিছে, কিন্তু আমরা গরিবরা কেমনে থাকমু। সারা দিনে অল্পকয় টেকা পাই। তা দিয়া কোনোভাবে চলতে হয়। সংসারের খাবার সংগ্রহের জন্য রোদ কী আর ঝড়-বাদল কী! কাজ না করলে অনাহারে থাকা লাগব।’

এমনভাবেই প্রখর রোদে রিকশা চালিয়ে দুঃখের কথা বলছিলেন চালক স্বপন শব্দকর। সংসার চালাতে স্বপনের মতো অনেকেরই বিকল্প নেই।

যদিও গত তিন দিন ধরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গ্রীষ্মের প্রখর তাপপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চলমান তাপপ্রবাহে পুড়ছে প্রকৃতি, সূর্যের প্রচণ্ড তাপ আর বাতাস যেন আগুনের হলকা। সকাল থেকেই সূর্য তেতে থাকে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাপমাত্রাও বাড়ে।

এ আবহাওয়ায় দেখা দিয়েছে ভাইরাস জ্বর, পেটের পীড়া ও জলবসন্তের।

এ বার গ্রীষ্মের শুরু থেকে কমলগঞ্জে তেমন বৃষ্টির দেখা মেলেনি। অনাবৃষ্টি ও সঠিক সময়ে সেচ দিতে না পারায় রবি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

দিনমজুরসহ নিম্নবিত্তের মানুষরা বলছেন, বসে থাকলে সংসার চলে না। কাজ না পেয়ে এই তাপপ্রবাহে দিশেহারা হয়ে ছুটছেন তারা। প্রখর রোদের উত্তাপে কাজ, জীবিকা নির্বাহ অনেক কষ্টকর হয়ে গেছে তাদের। অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকে।

এ পরিস্থিতিতে দিনমজুরদের হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

কমলগঞ্জের চিকিৎসক ডা. তানভীর আহমেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, এ আবহাওয়ায় এখন ভাইরাস জ্বর, পেটের পীড়া ও জলবসন্তের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে পাঁচজন করে ভাইরাস জ্বর, পেটের পীড়া ও জলবসেন্তর রোগী দেখছেন তিনি। প্রচণ্ড গরমে দিনমজুরদের হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা রয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া জানান, ‘তাপপ্রবাহের কারণে খেটে-খাওয়া দিনমজুরদের হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা আছে। হাসপাতালে পেটের পীড়াজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। রোগীদের মধ্যে বয়স্করাই বেশি। ডাক্তাররা গরমে বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং করোনা প্রতিরোধে সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলছেন।’

More News...

যুবলীগ নেতাকে হত্যার দায়ে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

নগরবাসীর উপর আস্তা রেখেছি: মসিকের মেয়র প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু