যুদ্ধক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের গুলিতে চাদের প্রেসিডেন্ট নিহত

যুদ্ধক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের গুলিতে চাদের প্রেসিডেন্ট নিহত

অনলাইন ডেস্ক : চাদের প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস ডেবি (৬৮) ষষ্ঠবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরদিন বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্যে নিহত হয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার তার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে চাদের সেনাবাহিনী। সরকারী বাহিনীর সাথে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে আহত হয়েছিলেন তিনি।

দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আজেম বেবমেনদাও আগৌনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেছেন, চাদের উত্তরাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৈন্যদের দেখতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস ডেবি নিহত হন।

সোমবার বিদ্রোহীরা রাজধানী এনজামিনা অভিমুখে কয়েক শ কিলোমিটার এগিয়ে এলে ইদ্রিস ডেবি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মিলে বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করতে ময়দানে নামেন। সেখানে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে রাজধানীতে আনার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। রাজধানী থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে থাকতেই বিদ্রোহীদের রুখে দিতে সক্ষম হয় চাদের সেনারা।

তিনি বলেন, দেশের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে ইদ্রিস ডেবি ইতনো আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করতে করতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

বিবিসি জানায়, এরই মধ্যে দেশটির সরকার ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ১৮ মাস সরকার পরিচালনা করবে মিলিটারি কাউন্সিল। ইদ্রিসের ছেলে ৩৭ বছর বয়সী কাকার নেতৃত্বে চলবে মিলিটারি কাউন্সিল। দেশজুড়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর একজন জেনারেল রয়টার্সকে বলেন, ৩০০ বিদ্রোহীকে হত্যা ও ১৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। ৫ জন সেনা নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছে। তবে রয়টার্স এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

আফ্রিকার সাহিল অঞ্চলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র ইদ্রিস ১৯৯০ সালে ক্ষমতা দখল করেন। তবে তেলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছিল।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ৬৮ বছর বয়সী ইদ্রিস দেবি ছিলেন সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আফ্রিকান নেতাদের অন্যতম। ১৯৯০ সালে এক বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন। জঙ্গি সংগঠন বোকো হারামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র ছিলেন তিনি।

গত ১১ এপ্রিল দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার এক দিন পর তার মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। ৭৯ শতাংশ ভোট পান তিনি। বেঁচে থাকলে তিনি ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতায় আসতেন। তবে তার দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের বেশির ভাগই নির্বাচন বর্জন করে।

বিদ্রোহীরা রাজধানীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে জানিয়ে, গত সপ্তাহেই চাদে নিজেদের দূতাবাস থেকে জরুরি দায়িত্বপ্রাপ্তরা ছাড়া সকল কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

More News...

জাতীয় প্রেসক্লাবে বিড়ি শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

কৃষকদের টাকা দিলে ফেরত দেয়, কোটিপতিরা দেয় না’