মিক্সিং প্লান্টের বিষাক্ত ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

মিক্সিং প্লান্টের বিষাক্ত ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

মোঃ আবুল কালাম, দিনাজপুর : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বেতদিঘী ইউনিয়নের দামারমোড় এলাকায় বিটুমিন মিক্সিং প্লান্টের বিষাক্ত ধোঁয়া, ধুলাবালি ও বিটুমিন পোড়ানোর দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে পথচারীসহ গ্রামবাসীর। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, পথচারী ও এলাকার বাসিন্দারা। পৌর শহরসহ উপজেলার পাশপাশে এমন কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নীরব বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে প্রতিকার করেও দুর্ভোগ না কমায় ফুঁসছে এলাকাবাসী। অপরদিকে প্লান্টের বিষাক্ত ধোঁয়া, ধুলাবালি ও বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়া পাশের জমির ধানের গাছ পুড়ে গেছে। কালো ও ফ্যাকাসে হয়ে গেছে সবুজ ধানের ক্ষেত। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলার চিন্তামন থেকে দেশ মা হাট সড়কের সম্প্রসারণ কাজ চলছে। ওই সড়কের নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে দামারমোড় বাজারের ৩০০ গজ পূর্বপ্রান্তে। সেখানেই বিটুমিন পোড়ানো ও মিক্সিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। পরে মিক্সিং পাথর ট্রলিতে করে দেশ মা হাটের ওইদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই রাস্তার কাজের ঠিকাজার জয়পুরহাটের ইফান এন্টার প্রাইজ বলে জানায় উপজেলা প্রকৌশল অফিস। দিনভর বিটুমিন মিক্সিং প্লাান্টের ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়া দায়। সেই ধোঁয়া ও ধুলাবালি আশপাশের ফসলি জমিসহ বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উড়ে পড়ছে। তবে সেইসব মেশিনের ছবি নিতে গেলে সাংবাদিককে পড়তে হয় রোষাণলের মুখে। হঠাৎ করেই ঠিকাদারের কেয়ারটেকার চড়াও হয়ে সাংবাদিককে বলে, ছবি তুললেন ক্যান মেশিনের, ছবি তুলতে অনুমতি নিয়েছেন? এখান থেকে চুপচাপ চলে যান। এলাকাবাসীরা বলেন, চিন্তামন থেকে দেশমা হাট সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য দামারমোড় বাজারের তিন’শ গজের মধ্যেই দামাড়মোড়-পুখুরী সড়কের ওপর বিটুমিন মিক্সিং প্লান্ট মেশিন বসানোসহ নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। সড়ক সম্প্রসারণ করতে বিটুমিন পোড়ানোসহ মিস্কিং প্লান্ট সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চালু রাখা হয়। তখন প্লান্টের বিষাক্ত ধোঁয়া, পাথরের ধুলাবালি ও বিটুমিন পোড়ানোর গন্ধে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল তো দুরের কথা বাজারেও ঠিকমতো থাকা যায় না। কিন্তু এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে দুর্ভোগে পড়লেও প্রতিবাদ করতে ভয় পায় সবাই। তাই ওই রাস্তার মানুষগুলো বেশি অর্থ ব্যয় করে আটপুখুরহাট দিয়ে ঘুরে জরুরী কাজ সারছেন। পৌর শহরসহ উপজেলার পাশপাশে এমন কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নীরবেই থেকে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, বিটুমিনের ধোঁয়ায় গন্ধে ও ধুলাবালির কারণে দম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এর প্রতিবাদ করলে এলাকায় থাকা যাবে না। এভাবে চলতে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টের রোগী হয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মোতাহার হোসেন বলেন, ওই নির্মাণকাজের কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে আমার জমির ফসল প্রায় কালচে হয়ে এসেছ। সেগুলোতে আর ধানের শীষও গজায়নি। তবে ঠিকাদার বলেছে আমার জমির নষ্ট হওয়া ফসলের কিছু ক্ষতিপূরণ দিবে।

More News...

গজারিয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিধায়ী সংবর্ধনা

পাইকগাছায় মুক্তিযোদ্ধাদের নগদ সহায়তা প্রদান